মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন
রোজাদার ব্যক্তি মহান আল্লাহর নিকট এতটাই মহব্বতের পাত্র যে, সে কিছু চাইলে আল্লাহ তা ফিরিয়ে দেন না। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন, তিন ব্যক্তির দু'আ ফিরিয়ে দেয়া হয় না, এক.রোজাদারের দু'আ ইফতার পর্যন্ত। দুই.ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু'আ। তিন. মজলুমের দু'আ। আল্লাহ এ দু'আকে মেঘমালার উপরে নিয়ে যান। এর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেন। রব বলেন, আমার ইজ্জতের কসম, বিলম্বে হলেও আমি তোমাকে সাহায্য করব। ( তিরমিযী : ৩৫৯৮)
কিয়ামতের দিন রোজাদারের জন্য রোজা নিজে সুপারিশ করবে। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন সিয়াম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, ওগো রব! দিবসে আমি তাকে পানাহার ও (বৈধ) জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে নিবৃত্ত রেখেছি। তার ব্যাপারে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, রাতে আমি তাকে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তার ব্যাপারে আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমাদ-৬৬২৬)
রোজাদার হলেন আল্লাহ তাআলার বিশেষ মেহমান। জান্নাতে প্রবেশের জন্য তার সৌজন্যে বিশেষ তোরণের ব্যবস্থা থাকবে। নবীজী বলেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন তা দিয়ে রোজাদাররা প্রবেশ করবে। তারা ব্যতীত অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা আসবে। তারা ছাড়া তা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না। রোজাদাররা প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। এরপর আর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না। (সহিহ বুখারী- ১৮৯৬)
আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা সাহরি করো। কেননা সাহরির খাবারে বরকত রয়েছে। (সহিহ বুখারী-১৯২৩) সাহরি করা যেমন মুস্তাহাব তেমনি তা ওয়াক্তের শেষ দিকে করাও উত্তম। অর্থাৎ সতর্কতামূলক সময় হাতে রেখে সুবহে সাদিকের পূর্ব-নিকটবর্তী সময়ে সাহরি করা ভালো। নবীজী বলেন, আমরা নবীগণ এ মর্মে আদিষ্ট হয়েছি যে, সময় হওয়ার সাথে সাথেই ইফতার করব এবং শেষ ওয়াক্তে সাহরি গ্রহণ করব। (আলমুজামুল আওসাত, তবারানী-১৮৮৪)
সময় হওয়ার সাথে সাথেই ইফতার করা। এতক্ষণ আল্লাহর হুকুম ছিল খাবে না। এখন সূর্য অস্ত গিয়েছে। এখন তাঁর হুকুম ইফতার করা। তাই আর দেরি নয়, জলদি জলদি ইফতার শুরু করে দিন। পূর্বে উল্লেখ হয়েছে দ্রুত ইফতার করা ছিল নবীগণের বৈশিষ্ট্য। সাহাবায়ে কেরামও দ্রুত ইফতার করতেন। নবী কারীম (সা.) বলেন, মানুষ ততদিন খায়ের ও কল্যাণের মাঝে থাকবে, যতদিন তারা সময় হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ইফতার করবে। (সহিহ বুখারী-১৯৫৭)
পুরো রমজানই রহমত-মাগফিরাতের মাস। তবে কিছু কিছু মুহূর্তে বান্দার প্রতি তা প্রবল বেগে ধাবিত হয়। ইফতারের সময়টিও এমন। তাই এ সময়ের দু'আ আল্লাহপাক বিশেষভাবে কবুল করেন। রাসূল (সাঃ) বলেন, ইফতারের সময় রোজাদারের অন্তত একটি দুআ এমন, যা ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (সুনানে ইবনে মাজাহ-১৭৫৩) অর্থাৎ কমপক্ষে একটি দুআ অবশ্যই কবুল হয়। সুতরাং এ সময় নিজে দুআ করি, ঘরের নারীদেরও শরীক করি।
ইফতারের সময় হাদিস শরীফে এ দুআ পড়ার কথা এসেছে, আয় আল্লাহ! আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশেই রোজা রেখেছি এবং আপনার রিযিক দিয়েই ইফতার করেছি। (সুনানে আবু দাউদ-২৩৫৮) রাসূলুল্লাহ (সা.) ইফতার গ্রহণ করে এই দুআও পড়তেন, পিপাসা নিবারিত হলো, শিরা-উপশিরা সতেজ হলো। আর আল্লাহ চাহেন তো সওম-এর সওয়াব প্রাপ্তির খাতায় লিপিবদ্ধ হলো। (সুনানে আবু দাউদ-২৩৫৭)
রোজাদারকে ইফতার করানো অনেক বড় সওয়াবের আমল। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কেউ যদি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায় তাহলে সে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব লাভ করবে। আর এতে ওই রোজাদারের সওয়াবে কোনো কম করা হবে না। (জামে তিরমিযী-৮০৭)