
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নে অবস্থিত মমারিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫, সকাল দশটা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন মিলনমেলার সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই পর্বের এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সাফল্যকে স্মরণ করা। দিনব্যাপী আয়োজনে স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পঞ্চাশ বছরের পথচলাকে উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমান। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মতিউর রহমান চৌধুরী পলাশ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ আশরাফুল হক আরমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল আলম, ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন, দাগনভূঞা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়াহিদ পারভেজ, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য জাহিদুল ইসলাম সৈকত, কানাডা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন পাটোয়ারী, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুল উদ্দিন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম। দুপুর সাড়ে বারোটায় কেক কেটে সুবর্ণজয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এবং এরপর বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক এবং দাতা সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের শুধু অবকাঠামো হলে হবে না, আমাদের মানুষ তৈরি করতে হবে। আগে সামাজিক একটা লক্ষ্য ছিল যে মানুষ হওয়া। এখন উদ্দেশ্যটা অন্যদিকে সরে গেছে। আর্থিকভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করাকেই অনেকে জীবনে বড় হওয়া মনে করে, কিন্তু এটা সঠিক নয়। আমাদের আবার মূল জায়গায় যেতে হবে, আমাদের মানুষ হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত মানুষ তৈরি করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, ফেনী এবং সর্বোপরি রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা বাড়াতে হবে। দক্ষতা ছাড়া আগামী দিনে টিকে থাকা খুব কঠিন হবে। আমাদের শুধু শিক্ষা নয়, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রয়োজন। জীবনে শৃঙ্খলা না থাকলে সফল হওয়া যায় না।”

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর তায়বুল হক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সচিব ড. তবারক উল্লাহ চৌধুরী বায়েজিদ। বিকালে সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রাক্তন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্য থেকে স্মৃতিচারণ করেন ৯৬ তম ব্যাচের শেখ ফরিদ শিমুল, শাহীন একাডেমির সিনিয়র শিক্ষক ওজি উল্লাহ, মো: মিজানুর রহমান এবং গোলাম রসুল।
সন্ধ্যায় দেশের বিশিষ্ট ফোক শিল্পী সুকুমার বাউলের সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।