ফেনীর ৪০০ বছরের মসজিদে নামাজ হয়, সংস্কার হয় না।

মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, ফেনী।

​ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মাটিয়া গোধা গ্রামে অবস্থিত ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো ‘চাঁদগাজী ভূঁঞা জামে মসজিদে’ নিয়মিত নামাজ আদায় হলেও সংস্কারের অভাবে ঐতিহাসিক এই মোগল স্থাপত্যটি তার জৌলুস হারাতে বসেছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ঘোষণার তিন দশকেরও বেশি সময় পর, দেয়াল ও গম্বুজে শ্যাওলা জমে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে কালের সাক্ষী এই মসজিদটি।

​বাংলার বারো ভূঁঞাদের অন্যতম, মোগল আমলের প্রখ্যাত জমিদার চাঁদগাজী ভূঁঞা মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের প্রধান দরজার উপরে কালো কষ্টি পাথরে আরবিতে এর নির্মাণকাল ১১২ হিজরি খোদাই করা আছে। চাঁদগাজী ভূঁঞার বংশধর জামসেদ আলমের মতে, তৎকালীন রীতি অনুযায়ী হিজরি তারিখ লেখার সময় এক হাজার অঙ্কটি বাদ দিয়ে শুধু পরের অংশ লেখা হতো, সেই হিসাবে মসজিদটির প্রকৃত নির্মাণকাল ১১১২ হিজরি। অযত্ন ও অবহেলার কারণে বর্তমানে মসজিদটির দেয়াল, ছাদ ও গম্বুজ শেওলা ধরে কালো হয়ে গেছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

​২৮ শতক জায়গার ওপর চুন, সুড়কি ও ক্ষুদ্র ইট দিয়ে নির্মিত মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী অনন্য। ৪৮ ফুট দীর্ঘ, ২৪ ফুট প্রশস্ত ও ৩৫ ফুট উচ্চতার এই স্থাপনার দেয়ালগুলো চার ফুট পুরু। মসজিদের ছাদে তিনটি সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে, যার মাঝখানেরটি তুলনামূলকভাবে বড়। প্রতিটি গম্বুজের উপরে পাতা ও কলসের নয়নাভিরাম নকশা রয়েছে। এছাড়া একই রকম স্থাপত্যশৈলীর আরও ১২টি ছোট মিনার মসজিদের সৌন্দর্যকে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরের দেয়ালে ফুল ও পাতার টেরাকোটার নকশা মোগল স্থাপত্যের নিপুণ কারুকার্যের পরিচয় বহন করে।

​ঐতিহাসিক এই মসজিদটি ১৯৮৭ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের গেজেটভুক্ত হয় এবং ১৯৯২ সালে এর কিছু অংশের সংস্কার করা হয়। মসজিদ কমিটির তথ্যমতে, সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে সামান্য কিছু সংস্কার কাজ হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থাপত্যটি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মসজিদের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এর রক্ষণাবেক্ষণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

​চাঁদগাজী ভূঁঞার এক বংশধর জামসেদ আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখতে আসেন, কিন্তু বেহাল সড়কের কারণে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি মসজিদ ও সংলগ্ন সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সরকারিভাবে মসজিদের জন্য একজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের অনুরোধ করেন, যাতে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যটি যথাযথভাবে রক্ষা করা সম্ভব হয়।

​উল্লেখ্য, ১৬৩৫ থেকে ১৭০০ সালের মধ্যে জমিদার চাঁদগাজী ভূঁঞা এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন এবং নিজের নামে মসজিদ, বাজার ও কাছারি বাড়ি নির্মাণসহ বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করে ইতিহাসে স্থান করে নেন। মসজিদের দক্ষিণ পাশেই তাঁর কবর রয়েছে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ