
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মো. ফখরুদ্দীন মানিকের শ্বশুর ইমাম উদ্দিনের (৭৪) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালীর মাইজদিতে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় ইমামতি করেন ডা. মানিক নিজেই।
জানাজার পূর্বে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে ডা. মো. ফখরুদ্দীন মানিক তার শ্বশুরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, ইমাম উদ্দিন একজন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি এলাকার একটি মসজিদের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সামাজিক বিচার-শালিসে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ডা. মানিক তাকে একজন নিরহংকারী, সহজ-সরল ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমি তাকে কখনও রাগ বা অভিমান করতে দেখিনি।” তিনি আরও বলেন, তার শ্বশুর পদ্ধতিগতভাবে ইসলামি আন্দোলনের সাথে যুক্ত না থাকলেও পরিবারের সকল সদস্যকে এই পথে চলতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি মরহুমের সকল ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তার ও পরিবারের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
ডা. মানিক তার বক্তব্যে জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, “আমাদেরকেও একদিন এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। আজকের জানাজা থেকে আমরাও সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি, যাতে আখেরাতে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে পারি।”
জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আলা উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমীর মাওলানা ইসহাক খন্দকার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী শহর শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান আরমান, নোয়াখালী শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু ইউসুফ এবং ইউনিয়ন আমীর মাওলানা এনায়েত উল্লাহ। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা, আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা জানাজায় শরিক হন।
জানাজা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করা হয়।