মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনীর মহিপালে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আটজন নেতা-কর্মীসহ বেশ কিছু নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে আসামি করার অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে মামলা থেকে নির্দোষ ব্যক্তিদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকালের দিকে ছাগলনাইয়ার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ ও দাবি জানানো হয়। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর কৃষি ও অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক এবং ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস।
সংবাদ সম্মেলনে মুজিবুর রহমান জানান, গত ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ফেনীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা ১৩৯২/২৫ দায়ের করা হয়। মামলাটির বাদী ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পশ্চিম শিলুয়া গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন গাজী। নেতৃবৃন্দ জানান, এই মামলায় জামায়াতে ইসলামীর একজন রোকন ও সাতজন কর্মীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে উল্লিখিত ঘটনার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের মাধ্যমে ফেনীর পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গত ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মহিপালে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, তা অত্যন্ত নৃশংস এবং জামায়াতে ইসলামী এমন কোনো ঘটনাকে সমর্থন করে না। কিন্তু সেই ঘটনার সূত্র ধরে দায়ের করা এই মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেকেই নিরীহ। মুজিবুর রহমান বলেন, “যাদেরকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেককেই আমরা ব্যক্তিগতভাবে চিনি। মহিপালের ঘটনার সাথে তাদের দূরতম সম্পর্কও নেই।”
মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা হলেন—শুভপুর ইউনিয়ন জামায়াতের রোকন মাকসুদ আহমেদ মুন্না, শিলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী মোঃ হানিফ, পশ্চিম পাঠাননগর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী মোঃ রাব্বি ও নুর উদ্দিন, শুভপুর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী আবুল হোসেন প্রকাশ মনির ও ওসমান গণি রানা এবং হরিপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর শুভাকাঙ্ক্ষী নজরুল ইসলাম হেলালী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কেবল দলীয় কর্মীই নন, অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মহিপালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং দায়েরকৃত মামলা থেকে অভিযুক্ত আটজন কর্মীসহ অন্য সকল নিরপরাধ ব্যক্তিকে অব্যাহতি দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।