ফজলুর রহমান,নিজস্ব সংবাদদাতা।।
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় প্রতিবন্ধী ও বিধবা নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর জীবন মান উন্নয়নে এককালীন ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা নগদ আর্থিক অনুদান হিসেবে হাতে তুলে দিলেন বেসরকারি এনজিও রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলার দয়রামপুর বাজারে অবস্থিত ডাচ্ বাংলা ব্যাংক শাখার মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে নগদ ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মিজানুর রহমান ও রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)বাগাতিপাড়া শাখা অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার জীবন চন্দ্র বর্মন,কেইস ম্যানেজার রায়হানুল ইসলাম, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, দয়ারামপুর শাখা ম্যানেজার লুৎফর রহমান।
উল্লেখ এর আগে বাগাতিপাড়া সমাজসেবা কার্যালয়ের সহযোগিতায় উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ভাতাভোগী মানুষদের নিয়ে জীবন দক্ষতা, আর্থিক সাক্ষরতা, ব্যবসায়িক দক্ষতা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি গ্রুপে ৩০জন করে পাঁচদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়,সেই কর্মশালা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নের জন্য ৩৯৭ জন প্রতিবন্ধী ও ৫৯০ বিধবা নারীসহ মোট ৯৮৭ জনকে আর্থিক অনুদানের চেক দেয়া হয়। বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় তাদেরকে জনপ্রতি ৪৫ হাজার টাকা করে মোট ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন,সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের ৬ টি জেলার ৬ টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চলমান হয়েছে,তারই ধারাবাহিকতায় বাগাতিপাড়াতে আমরা জনপ্রতি ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করছি, যারা উপকার ভোগী তাদের প্রশিক্ষণে মাধ্যমে গরু ছাগল পালন অথবা ক্ষুদ্র ব্যবসা করতে অঙ্গীকারবদ্বদের মনিটরিং টিম রয়েছে,যদি কেহ এই টাকা অপব্যবহার করে তাহলে অবশ্যই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)বাগাতিপাড়া শাখা অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার জীবন চন্দ্র বর্মন সিটিএম প্রকল্প-পিইআই পাইলট সার্ভিস কার্যক্রম এককালীন অনুদান প্রদান কর্মশালা ও প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ৬টি উপজেলায় দশ হাজার সুবিধাভোগীদের আর্থিক সাক্ষরতা, ব্যবসায়িক দক্ষতা ও জীবন দক্ষতা উন্নত করণ,আত্মবিশ্বাস, আত্ম-সম্মান ও সক্ষমতা শক্তিশালী করণের মাধ্যমে স্থায়িত্বশীল জীবিকায়ন তৈরী করা,সম্পদ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির মাধ্যমে দশ হাজার চরম দরিদ্র, ঝুকিপূর্ণ নারী পুরুষ ও তাদের পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুবিধার্থে সুযোগ সৃষ্টি করা,ব্যবস্থাপনামূলক/পরিচালনামূলক দক্ষতা ও কার্যকারিতার উন্নয়ন করতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা একীভূত করে প্রোডাক্টিভ ইকোনোমিক ইনক্লুশন (পিইআই) সুবিধাভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে রূপান্তর করা।
উপকারভোগী ব্যাক্তি বাগাতিপাড়া পৌরসভার লক্ষনহাটি মহল্লার আকরাম হোসেন ও উমর ফারুক উভয়ই প্রতিবন্ধী, তারা উপজেলা সমাজসেবা কার্যলয় ও রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)বাগাতিপাড়া শাখার প্রতি কৃতজ্ঞতা সহকারে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,আমরা আসলেই হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারনে আয় রোজকার করতে অক্ষম এখন এই টাকা নিয়ে একটি ছোট গরু কিনে লালন পালন করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।