
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনীতে যাত্রীবেশে এক কিশোর চালককে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ, আনুমানিক রাত পৌনে নয়টার দিকে ফেনী শহরের এসএসকে রোডের হোটেল ডিলাক্সের সামনে থেকে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযানে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটির বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা যায়, অটোরিকশা চালক মোঃ শাহিদ (১৭) গত বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফেনী সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ৩-৪ জন ব্যক্তি যাত্রী সেজে মহিপাল যাওয়ার জন্য ৭০ টাকায় তার অটোরিকশা ভাড়া করে। গাড়িটি ফতেপুর ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা চালককে ছুরি দিয়ে আঘাত করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেনী জেলার পুলিশ সুপার জনাব হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ সাইদুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব মোঃ সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার-ইন-চার্জ জনাব মর্ম সিংহ ত্রিপুরার প্রত্যক্ষ তদারকিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদ নুর ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী হোটেল ডিলাক্সের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ প্রথমে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো: এমদাদুল ইসলাম প্রকাশ পাভেল (২১), পিতা-মৃত মোঃ মিজান; মনোহর আলী প্রকাশ মনা (২১), পিতা-কামাল হোসেন; এবং মোঃ রাশেদ (১৯), পিতা-মোঃ আবুল কাশেম। তারা ফেনী সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করত।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরও তিন সদস্যকে ফেনী সদর থানার পাঁচগাছিয়ার বাথানিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো: মোঃ ইয়াছিন মানিক প্রকাশ বোমা মানিক (৪০), পিতা-মাহবুবুল হক; মোঃ নুরুল আমিন প্রকাশ শুকুর আলী (২৮), পিতা-মোঃ খোরশেদ আলম; এবং এনামুল হক (৫০), পিতা-মৃত আব্দুল হক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পাভেল, মনা ও রাশেদ অটোরিকশাটি ছিনতাই করে বোমা মানিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর বোমা মানিক ও শুকুর আলী মিলে অটোরিকশাটি খুলে এর মূল কাঠামো বাথানিয়া মসজিদের পুকুরে ফেলে দেয় এবং চাকা ও ব্যাটারিগুলো অন্যত্র বিক্রি করে। ডিবি পুলিশের অভিযানে পুকুর থেকে অটোরিকশার তিনটি খণ্ডিত অংশ, তিনটি চাকা এবং চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।