
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনী সদর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আলমগীর হোসেন সোহাগ (২৬) নামে এক যুবককে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট, ২০২৫) ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে মূল অভিযুক্ত মোঃ এরশাদ মিয়াকে (২৭) গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সোহাগ সদর উপজেলার ১২নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের ০৯নং ওয়ার্ডের মধ্যম রাজনগর এলাকার বাসিন্দা।
ফেনী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট, ২০২৫) রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে মধ্যম রাজনগর সাকিনের নাপিতের পোলের দক্ষিণ পাশে রাস্তার ওপর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সোহাগের স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৬) বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এরশাদ মিয়া তার স্বামী আলমগীর হোসেন সোহাগের সঙ্গে তর্কে জড়ায় এবং একপর্যায়ে নিজের সঙ্গে থাকা কাঁচি দিয়ে সোহাগের বুক, হাত ও মুখে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সোহাগকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর এজাহারের ভিত্তিতে শুক্রবার ফেনী মডেল থানায় মামলা (নং-৫১/২৫) রুজু করা হয় এবং মামলার তদন্তভার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুবল চন্দ্র নাথের ওপর অর্পণ করা হয়।
মামলা দায়েরের পর ফেনী জেলা পুলিশ সুপার জনাব হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর তত্ত্বাবধানে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে। অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানাধীন পাঠান নগর এলাকা থেকে মামলার একমাত্র আসামি মোঃ এরশাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃত এরশাদ মিয়া একজন মাদক ব্যবসায়ী ও চোর। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ প্রায় নয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মাত্র চার দিন আগেই সে অন্য একটি মামলায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিল।
এই বিষয়ে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার জনাব হাবিবুর রহমান জানান, “আমরা দ্রুত এই হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ নিহত সোহাগের লাশের প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।