সিএমপির সব ধরনের সংবাদ কাভারেজ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা।।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ধরনের সংবাদ কাভারেজ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন নগরের কর্মরত সাংবাদিকরা। অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘোষণা দেন তারা।

সম্প্রতি দেশের একটি স্বনামধন্য বেসরকারি টিভি চ্যানেলের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে জরিমানা আদায়ের পরও একই রিকশাকে পুনরায় আটক করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রচারের পর ১৯ আগস্ট সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম এক প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি প্রতিবেদনের তথ্যকে “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক” আখ্যা দেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের উদ্দেশে লিখিত বক্তব্যে সতর্ক করে বলেন–‘পুলিশ কার্যালয়ে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ করা বেআইনি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একই রাতে ডবলমুরিং থানায় শ্রমিক আন্দোলন কাভার করতে গিয়ে দৈনিক যায়যায়দিনের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক সাহিদুল ইসলাম মাসুম অপমানিত হন। অভিযোগ রয়েছে, ওসি বাবুল আজাদের নির্দেশে তাকে টেনে-হিঁচড়ে থানার হাজতে ঢুকিয়ে প্রায় ২০ মিনিট আটকে রাখা হয়। এছাড়া দৈনিক আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক আবদুল কাইয়ুমকেও হেনস্তার শিকার হতে হয়।

ঘটনার পর সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে ২১ আগস্ট নগরের আসকার দিঘীর পাড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা সিএমপি কমিশনারের বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কমিশনার কিংবা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর প্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা সর্বসম্মতিক্রমে সিএমপির সংবাদ কাভারেজ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিবি পুলিশের উদ্যোগে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও আসামি গ্রেপ্তার সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বয়কটের কারণে সেখানে মূলধারার কোনো গণমাধ্যম উপস্থিত হয়নি। কেবলমাত্র একটি ইউটিউবভিত্তিক পেজ ‘সিএনটিভি’ ও ‘চট্টগ্রাম পোস্ট’ নামের একটি অনিবন্ধিত পোর্টাল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়।

এই অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সাংবাদিক নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন–সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ এবং ডবলমুরিং থানার ওসি বাবুল আজাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত বয়কট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তারা আরও বলেন, ‘আমরা সংবাদ সংগ্রহে যেতে ভয় পাই না। কিন্তু যেভাবে অপমান, হেনস্তা ও হুমকির শিকার করা হচ্ছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন আঘাত।’

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ