
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ফেনী সরকারি কলেজের চারজন শিক্ষককে শাস্তিমূলক বদলি করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে। রবিবার (২৪ আগস্ট, ২০২৫) দুপুর ১২টার দিকে এই বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তাদের দাবি, হয়রানিমূলক এই বদলির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এ ঘটনায় কলেজজুড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলেজের প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। তারা চার শিক্ষককে পুনর্বহাল করা না হলে শ্রেণিকার্যক্রম বর্জনসহ কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কলেজের উপাধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষকরা এসে তালা খুলে দেন।
দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জান্নাত আক্তার মিম বলেন, “কোন ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই আমরা শুনতে পাই আমাদের বিভাগীয় প্রধান হানিফ স্যার সহ ৪ জন স্যারকে বদলি করা হয়েছে। স্যারেরা এ বিষয় জানতেন না। এটা একটা ষড়যন্ত্র বলে আমরা জানতে পারলাম। আমাদের এমনিতেই টিচার সংকট। বিভাগীয় প্রধান নেই। এরমধ্যে হঠাৎ বদলি করাটা আমরা মেনে নিবো না। আমরা চাই আমাদের স্যার যেন আমাদের বিভাগেই থাকে।”
শিক্ষার্থী ইমন দাস বলেন, “আমরা দেখেছি শাস্তিমূলক হিসেবে আমাদের ৪ জন স্যারকে কোনরকম না জানিয়ে বদলি করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা চাই আমাদের স্যারদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হোক।” আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাইমও একই সুরে হয়রানিমূলক এই বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একযোগে চারজন শিক্ষকের বদলির আদেশ আসে। এদের মধ্যে দর্শনের সহকারী অধ্যাপক হানিফ মিয়াকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক আহমদ আলীকে কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, অর্থনীতির প্রভাষক ইশতিয়াক উদ্দিনকে মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রভাষক মনজুরুল হাসানকে পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বদলিকৃত শিক্ষকরা বুধবার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, এই শাস্তিমূলক বদলির পেছনে কলেজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে। সূত্রটির মতে, কলেজের সাবেক একজন বিভাগীয় প্রধান সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তিনি গত বছর ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এছাড়া চলতি বছরের শিক্ষক পরিষদ নির্বাচনে তার সমর্থিত প্যানেলের পরাজয় ঘটায় তিনি কয়েকজন শিক্ষকের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এই বদলির পেছনে তার ইন্ধন রয়েছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা মনে করছেন। সূত্রটি আরও জানায়, বদলির তালিকায় কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের আরও আটজন শিক্ষকের নাম রয়েছে, যা শিক্ষক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আইউব প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “অধ্যক্ষ মহোদয় চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। বিষয়টি উনাকে অবগত করা হবে।”
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানতে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খোন্দকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।