হবিগঞ্জের অলিপুরে হাইওয়ে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ক্যাম্পের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

মোঃ মিজানুর রহমান,হবিগঞ্জ-

বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হলো হবিগঞ্জের অলিপুরে স্থাপিত হাইওয়ে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ক্যাম্প। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানা মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে বাস্তবে রূপ পেলো এই দুটি ক্যাম্প।

শনিবার দুপুরে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স) হারুন-উর-রশিদ হাজারী। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তৃতায় তিনি বলেন, “শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পুলিশ ক্যাম্প যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সবসময় সজাগ থাকবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশন্স-পূর্ব) হাবিবুর রহমান খান। তিনি বলেন,“ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ অংশে যানজট ও দুর্ঘটনা প্রতিদিনের দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইওয়ে পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন্স-পূর্ব) মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা, স্থানীয় শিল্প কারখানার কর্মকর্তা, পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ও সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “অলিপুরে প্রতিদিন লাখো শ্রমিক ও হাজারো যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়। এখানে দখলদারিত্ব, ছিনতাই, দুর্ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। মাত্র ৩৬ দিনে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকদের সহযোগিতায় আমরা দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনা গড়ে তুলতে পেরেছি। আজ থেকে হাইওয়ে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের যৌথ কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও বলেন, “হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিয়া এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দীনের সার্বিক সহযোগিতায় এই স্থাপনা আজ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অলিপুর এলাকায় প্রাণ-আরএফএল, স্কয়ার ডেনিম, বাদশা গ্রুপ, স্টার সিরামিকস, আকিজ গ্রুপ, বিএইচএল, যমুনা গ্রুপসহ অন্তত দশটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন আসা-যাওয়া করেন। কেবল প্রাণ-আরএফএলেই কর্মরত আছেন প্রায় ২৬ হাজার শ্রমিক। ফলে যানজট, দুর্ঘটনা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্থানীয় শিল্প ও পরিবহন মালিকরা বলেন, এই উদ্যোগ দেশের নতুন পুলিশি ব্যবস্থার একটি দৃষ্টান্ত। তারা পুলিশ সুপার রেজাউল করিমকে “নতুন বাংলাদেশের নতুন পুলিশি ব্যবস্থার রাহবার” হিসেবে অভিহিত করেন।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ