চলতি মাস থেকে ওএমএস চালের বরাদ্দ বৃদ্ধি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে সরকার চলতি মাস থেকেই সরকার খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতায় চালের বরাদ্দ বাড়াতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। বুধবার (১৩ আগস্ট, ২০২৫) বিকালে ফেনী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এসময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা ও মেয়াদ উভয়ই বাড়ানো হয়েছে।
আলী ইমাম মজুমদার জানান, আগামী ১৭ আগস্ট থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “গত বছর পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে পাঁচ মাস ৫০ লাখ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। এবার এটি সম্প্রসারিত করে ৫৫ লাখ পরিবার ও ছয়মাস করা হয়েছে।” এই কর্মসূচির আওতায় আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ, এই দুই ধাপে চাল বিতরণ করা হবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কারণে সাধারণত চালের দাম স্থিতিশীল থাকে বলে এ দুই মাস কর্মসূচিটি বন্ধ থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরবরাহকৃত চালের মান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “এখন চালের মান অনেক ভালো। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা খোঁজ নিয়েছি, যে চাল বাজারে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় তা ওএমএসে ৩০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে, আবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সেই চাল ১৫ টাকায় পাওয়া যাবে।” তিনি অতীতের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “খারাপ মানের জিনিস কিন্তু দেওয়া হয় না। এক সময় রেশনের চাল রান্না করলে অনেক গন্ধ বের হতো। আগে চালের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধপত্র দেওয়া হতো, এখন সেদিন আর নেই।”
দেশের খাদ্য মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “বর্তমানে আমাদের ২২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি রয়েছে চাল।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন আমন মৌসুমের ফলন ভালো হলে চাল আমদানির প্রয়োজনীয়তাও কমে আসবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী এবং ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।