সংবাদ প্রতিবেদন : নিত্যবয়ান সংবাদদাতা, ফেনী
সরকারের প্রতি অবিলম্বে ৬ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম এবং নতুন করে দেশে কর্তৃত্ববাদের উত্থান হলে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্যজোট। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল এলাকায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকট এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের ধীরগতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও সংসদের বাসভবনে বিদ্যুৎ থাকলেও সাধারণ মানুষের ঘর অন্ধকার থাকছে। বিগত সময়ের শাপলা চত্বর, পিলখানা ট্র্যাজেডি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ কোনো হত্যাকাণ্ডেরই বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই অভিযোগ করে তিনি জানান, সরকার গণভোটের রায় না মেনে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তরুণদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় এই নেতা আরও বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে বিরোধী দল বসে আঙুল চুষবে না, বরং রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং রাজপথে বিরোধী দলকে দমন-নিপীড়ন করা হচ্ছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আঘাত দিলে পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বর্তমান সরকারের আত্মবিশ্বাস নেই এবং তারা গণভোটের রায় মানছে না। প্রয়োজনে জোর করে হলেও এই রায় মানতে সরকারকে বাধ্য করার কথা জানান তিনি।
১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু জানান, ১১-দলীয় ঐক্যের এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ হবে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি মাওলানা আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় এই পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম ও মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।
এছাড়াও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার চৌধুরী, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি ও মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম ও যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল হক চৌধুরী, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন, জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত ও সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক। পথসভায় আরও অংশ নেন এবি পার্টির সদস্যসচিব ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক মুসা, নোয়াখালী জামায়াতের আমির খন্দকার ইসা, লক্ষ্মীপুর জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া, ফেনী জেলা জাগপার সভাপতি সাইফুদ্দিন, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান এবং শহর সভাপতি শফিকুল ইসলামসহ জোটের অসংখ্য নেতা-কর্মী।