মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী
ফেনী শহরে ‘জুলাই গণহত্যা’র বিচার এবং ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শুক্রবার, ১ আগস্ট, বাদ আসর ফেনী শহর ও জেলা শাখার যৌথ আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের মিজান ময়দান থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মিজান রোড, কলেজ রোড, জেল রোড ও ট্রাংক রোড প্রদক্ষিণ করে। পরে বড় মসজিদ হয়ে শহীদ মিনারের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এই কর্মসূচিতে শত শত ছাত্র অংশগ্রহণ করে বলে আয়োজকরা দাবি করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য হাফেজ মাজহারুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ ন ম আব্দুর রহিম, ছাত্রশিবিরের শহর শাখার সভাপতি ওমর ফারুক, জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল, শহর সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম এবং জেলা সেক্রেটারি ইমাম হোসেন আরমান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সারাদেশে খুনি শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়। ছাত্র-জনতার রক্তের উপর অন্তর্বর্তী সরকার দাঁড়িয়ে আছে। এক বছর পরেও এখন পর্যন্ত জুলাই গণহত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হয়নি। এখন পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের ঘোষণা দেয়া হয়নি। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে এবং গণহত্যার বিচার করতে হবে।”
তারা আরো বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র, সংস্কার ও বিচার ছাড়া এ দেশের ছাত্র-জনতা কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। আমরা পড়ার টেবিলে আছি এ মুহূর্তে। আমাদের পড়ার টেবিল থেকে রাস্তায় নামাবেন না। সুতরাং দ্রুত জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র দিতে হবে।”
বক্তারা প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ওরা আত্মগোপনে থেকেও দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যেকোনো সময় তাদের অবৈধ অস্ত্র সাধারণ জনগণের উপর ব্যবহার হতে পারে। তাই সারাদেশ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগি সন্ত্রাসীদেরকে দ্রুত সময় গ্রেফতার করতে হবে।”
এছাড়া দেশব্যাপী চাঁদাবাজিসহ জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের প্রতিহত করারও আহ্বান জানান তারা।