নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক বহিরাগত যুবককে আটকের পর তার কাছ থেকে একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অশ্লীল ভিডিও, নথি জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনার প্রমাণ মিলেছে। সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলের সামনে থেকে দিদারুল ইসলাম শুভ নামের ওই যুবককে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি।
আটকের পর শুভর ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। তার ডিভাইসে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকার ১০ থেকে ১২ জন নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও, এক হাজারেরও বেশি আপত্তিকর ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক দিদারুল ইসলাম শুভ ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার করমউল্যাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের একজন কর্মী। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে গত আগস্ট মাস থেকে হিজাব পরে ছদ্মবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, শুভ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গোপন অনলাইন গ্রুপের সদস্য ছিলেন। ‘হৃদয়ে ৭১’ নামের একটি গ্রুপে তিনি একটি বার্তায় লেখেন, ‘আগামী মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ রইলো... অবৈধ সরকারকে উৎখাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আগামী মাসে ১১ দিন যেকোনো দিন যেকোনো সময় কর্মসূচি দিতে পারে... ইউনুস সরকার এই বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আগামী ১১ দিন সবাই নিজেদের হেফাজত রাখুন এবং অন্যকে সচেতন করুন।’ এই বার্তাটিকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
আটক শুভর সঙ্গে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। তিনি মেসেঞ্জারের মাধ্যমে নিয়মিত রুবেলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করতেন বলে জানা যায়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, “একজন শিক্ষার্থীকে হল থেকে জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পেয়ে আমরা তাকে আটক করি। তার ডিভাইস যাচাই করে বহু মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আটক দিদারুল ইসলাম শুভর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, তদন্তে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।