রহমান,নিজস্ব সংবাদদাতা।।
“আগে সেবা দাও, পরে কর নাও”এই স্লোগানকে সামনে রেখে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পৌরবাসীরা অতিরিক্ত কর আরোপ, অনিয়ম ও নাগরিক ভোগান্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন , স্মারকলিপি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
রবিবার(২৭জুলাই) বিকেলে পৌরবাসীর ব্যানারে মালঞ্চি রেলগেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু বের হয়। মিছিলটি মালঞ্চি বাজার প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পৌরসভার দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বিশেষ কাজে উপস্থিত না থাকায় তাঁর প্রশাসনিক দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ১৮ দফা দাবিনামা তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখযোগ্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও পরিষ্কারের নামে অপ্রাসঙ্গিক চার্জ আরোপ, একাধিক করবিল প্রদান, মৃত ব্যক্তির নামে বিল, জন্ম ও মৃত্যুসনদের বানান ভুল, পরিষেবার বিনিময়ে পুনরায় টাকা আদায়ের অভিযোগ, এবং দক্ষ কর্মী নিয়োগের দাবি। এছাড়াও ড্রেনেজ, লাইটিং, রাস্তাঘাট, স্ট্যান্ড নির্মাণ, মশা নিধন, নিরপেক্ষভাবে সরকারি সুবিধা বণ্টনসহ নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
পৌরবাসীদের ভাষ্যমতে, “নাগরিক সুবিধা না দিয়ে কর চাপিয়ে দেওয়া চরম অন্যায়। পৌরসভার ভেতরে একমাত্র ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশনের কোনো সুষ্ঠব্যবস্থা নেই। পরিষেবা না দিয়ে বারবার টাকা চাওয়া মানে জনবিরোধী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া।”
এ সময় উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, “পৌরসভার সাধারণ নাগরিক এখন শুধু কর পরিশোধের যন্ত্র। অথচ প্রয়োজনের সময় কোনো পরিষেবা বা দায়বদ্ধতা নেই। মৃত্যুর পরে সনদেও ভুল এ যেন আরেক মৃত্যু!” কাজ শেষ হওয়ার আগেই কাজের বিল উত্তোলন। নিন্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করে করা হয় প্রতিনিয়ত উন্নয়ন কাজ। কাজ না করে কিভাবে কাজের বিল উত্তোলন হয় এর সঠিক তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্তের আহ্বান জানান পৌরবাসি।
পৌরবাসীরা আশা করেন, উপজেলা প্রশাসন এই স্মারকলিপির আলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুব হোসেন জানান, তিনি নিজেও একজন পৌরসভার বাসিন্দা, কোনরকম সুবিধা ছাড়াই যে অতিরিক্ত কর গুলো আরোপ করা হয়েছে তার তিনি নিন্দা জানান। এবং পৌরবাসী দুদকের কাছে সঠিক তদন্ত চেয়ে যে অভিযোগ করেছে আমিও তাদের সঙ্গে একমত এবং আমিও চাই এটা দুদক তদন্ত করা উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন জানান,এই করটা তিনি আসার আগে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আগামী ২৯ তারিখে একটি মিটিং ডেকেছেন সেকানেই পুনঃবিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আর অনিয়ম বিষয়ে প্রয়েজনীয় মনে করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
