
মিনহাজ উদ্দীন, কাহালু, বগুড়া।।
জেলার কাহালু উপজেলাধীন পাইকড় ইউনিয়নে অবস্থিত যোগীরভবণ। এটি একটি পুরাকালের নিদর্শন। ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর এই যোগীভবণকে সংস্কার করলে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানাগেছে, কাহালু উপজেলার বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রয়েছে পুরাকৃর্তির বহু নিদর্শন। সেই পুরাকৃর্তির নিদর্শন গুলো কোনো কোনো স্থানে একেবারে ধ্বংস হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে আবার কোথাও মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।
ধ্বংসলীলা আর ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও এখনো কালের নীরব স্বাক্ষী হয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে অত্র উপজেলার
পাইকড় ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ঐতিহাসিক যোগীর ভবন। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যোগী ও সাধু-সন্নাসীদের আনা-গোনা ছিল বলে এ স্থানটির নামকরণ ‘‘যোগীর ভবন’’ বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
জানা যায় প্রায় ৮০ একর জায়গার উপর কয়েকটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা সংগঠিত হয়ে যোগীর ভবণ (Jogir Bhaban) গড়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে একটি আশ্রম, ০৪ টি মন্দির, কানচ কূপ, একটি ইঁদারা, ধর্মটঙ্গী এবং অগ্নিকুন্ড ঘর। যোগীর ভবনের আশ্রম ও মন্দির নির্মানের তেমন কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও এখানে বিভিন্ন দেয়ালের গায়ে ৮৮৪, ১১১৩, ১১১৯ খৃষ্টাব্দ লেখা রয়েছে যা থেকে অনুমান করা যায় যে, এটি ৮৮৪ সালে নির্মিত হয়েছিল। ১১১৩, ১১১৯ খৃষ্টাব্দে এটি সম্ভবতঃ সংস্কার করা হয়েছিল।
যোগীর ভবন মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পূজা-পার্বণ করে থাকেন।সর্বমঙ্গলা, দুর্গা, কালভৈরবী ও গোরক্ষনাথ নামের ৪টি মন্দিরের মধ্যে সর্বমঙ্গলা মন্দিরটি ইট ও পোড়ামাটির ফলক দ্বারা অলংকৃত একটু ব্যতিক্রর্মী নকশাকৃত। যদিও এই মন্দির নির্মাণের কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য জানা যায়নি। কথিত আছে, বাংলার কিংবদন্তী নায়িকা বেহুলার মৃত স্বামী লক্ষিন্দর এখানকার কানচ কূপের পানির মাধ্যমে জীবন ফিরে পেয়ে ছিলেন।
স্থানীয়রা বলছেন এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিবেশগত দিক থেকে এবং সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটালে এটি হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান। যা সাধারণ মানুষের মন কাড়বে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।