আলা উদ্দিন, ফেনী :
প্রতিটি মানুষের মন-মনন এবং চিন্তার পরিধি পরিমাপ করা হয় কর্মের মাধ্যমে, অদম্য ইচ্ছা শক্তির চিন্তা চেতনা আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি উদারতা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে অল্প কয়েক মাসের মধ্যে ফেনী পৌরবাসীর মনের স্থান করে নিয়েছেন প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফেনী পৌরসভা ভুবনে বিক্ষিপ্ত জনতা আগুনে ধ্বংসত্ব রূপে পরিণত হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ নথি যানবহন ও আসবাবপত্র সহ সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এর কিছুদিন পরে স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যায় পৌরসভা ভুবনের নিচতলা ডুবে গিয়ে অচল অবস্থা দেখা দেয় জনপ্রতিনিধি বিহীন নাগরিক সভার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হয়ে পড়ায়,মনপ্রাণ দিয়ে টেনে তুলার চেষ্টা প্রশাসক সহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মোঃ বাতেন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার,পর নাগরিক সেবার উপর জোর দিচ্ছেন। আগুনে পোড়ার পর সেগুলো ধীরে ধীরে সচল করে,পৌরবাসীকে সেবা আগের চেয়েও ভালোভাবে সেবা দিচ্ছেন বলেও জানায় অনেকে। সুন্দর পরিচ্ছিন্ন বসবাসযোগ্য নান্দনিক পৌরসভা নির্মাণের লক্ষ্যে নিরন্তন ছুটি চলেছেন ।
এদিকে শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজ শুরু করে সফল হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে।ফেনী পৌরসভায় আগে সাধারণ মানুষের অনেক অভিযোগ ছিল,জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন ট্রেড লাইসেন্স ওয়ারিশ সনদ পারিবারিক সনদ এ কাজ করতে আসলে পৌরসভা ভোগান্তির শেষ ছিল না,কিন্তু পৌর প্রশাসক পৌরসভাতে সর্বপ্রথম এসে পৌরবাসীর যেই সব কাজে হয়রানি হয়েছিল সেদিকে তিনি প্রথম নজর দিয়েছেন।এবং পৌরবাসী হয়রানি ছাড়া যাতে কাজ করতে পারে সেদিকে তিনি নিজে তদারকি করতেছে, পৌরসভাতে সাধারন মানুষ এসে হয়রানি ছাড়া কাজ করতে পেরে সাধারণ মানুষ খুশি।
তিনি ইতিমধ্যে শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে বিভিন্ন রাস্তা পাশে সড়ক ডিভাইডার সরকারি বেসরকারি অফিস শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিভাবে সৌন্দর্য বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। বর্ষার আগে থেকে তিনি, পৌরবাসী যেন পানি জমে কষ্ট না পায়, প্রত্যেকটা পৌরসভার আঙ্গিনায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করতে যা যা দরকার তিনি তা করছেন,ও বড় ধরনের যে খালগুলোতে যোগের পর যুগ কেউ হাত দেয় নাই,তিনি ঐ খাল গুলোই খনন শুরু করেছেন, ইতিমধ্যে বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পৌর এলাকা শহরের সড়ক অলিতে গলিতে বৃষ্টির পর পানি জমে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিনের খাল খনন না থাকার কারণে পানি নিষ্কাশনের ধীরগতি দেখা যায়।পৌরবাসীর জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে,এজন্য পৌর প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন এ খাল গুলো প্রথমে খুঁজে বের করেন, তিনি ধারণা করেন, এই খাল গুলো খনন শেষ হয়ে গেলে ভারী বর্ষণেও পৌর এলাকার মধ্যে আর পানি জমা থাকবে না, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফেনী পৌরসভার পক্ষ জলবদ্ধতা নিরাশনে পৌরসভার উদ্যোগে খাল খনন পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছেন যার মধ্যে রয়েছে পাগলির ছড়া, দমদমা, দাউদপুর, কুমড়ার ছড়া, আরামবাগ, মধুয়াই ও নিরানি খাল ছড়া,যা এখনো চলমান রয়েছে।
২১ শে আগস্ট থেকে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাঠে-ঘাটে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন,বলা যায়,অনেকটাই অন্ধকার পৌরসভাকে আলোর পথে এনেছেন এদিকে পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভার এরিয়ার বিভিন্ন সরকারী দপ্তর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিতে গলিতে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রম সবসময় অব্যাহত থাকবে।
ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির উদ্দিন
দৈনিক আমার কাগজকে জানান, আগুনে পোড়াও বন্যার মত দুটি ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে পৌরসভা আগের পর্যায়ে আনতে দিনে রাত প্রশাসক স্যার সহ আমাদের সকলকে একযোগে অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে, এবং কি ইতিমোধ্য পৌরবাসী সেবা পেতে যা যা করণীয় আমরা তা করতেছি,সকালে অফিসে আসলে রাতেও বাসা যাতে পারি না।এভাবে আমাদেরকে কাজ করে পৌরবাসীকে সেবা দিতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন দৈনিক আমার কাগজকে বলেন, দুর্নীতি একটি বড় ধরনের সমস্যা, তবে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো অন্তত আমি থাকাকালীন পৌরসভায় যাতে কোনো দুর্নীতি না হয়। সব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা রাখা হবে নান্দনিক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পৌরসভার ড্রেন, রাস্তা, ডাম্পিংসহ নানা সমস্যা চিহ্নিত করে ময়লা-আবর্জনা ও বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়া পৌরসভাকে বাসযোগ্য করার নিরলস প্রচেষ্টায় নর্দমাযুক্ত পৌরসভা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পৌরসভায় রূপান্তর করেছি।আরসিসি দ্বারা রাস্তার উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ, নতুন রাস্তা আরসিসি দ্বারা ঢালাইয়ের পাশাপাশি স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করেছি। পৌরসভার অনেক পাড়াতে ড্রেন ছিলনা পাকা ড্রেন নির্মাণ ছাড়াও পাবলিক টয়লেট, পৌর এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন, প্রত্যেক ওয়ার্ডে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তায় সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুততম সময়ে ভূমি জটিলতা, পারিবারিক বিরোধসহ নানা ধরনের বিরোধ-সমস্যা সমাধান করি।পৌরসভার ভেতরে কোন রাস্তার সমস্যার দেখা হলে সাথে সাথে সমাধান করা হয়েছে ,এর মধ্যে আজমিরী বেগম সড়ক আদালত পাড়া সংলগ্ন বঙ্গবীর সড়ক নতুন আরসিসি দ্বারা ঢালাইয়ের রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে, এছাড়াও বাদশা মিয়া সড়ক,শান্তি দ্বারা আবাসিক এলাকা নতুন রাস্তা আরসিসি ঢালাই ড্রেন ওই এলাকা মানুষের সুবিধার্থে করে দেওয়া হয়েছে,এভাবে ১৮ ওয়ার্ডের ভিতর এখনো কাজ চলমান রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশে গার্ডওয়াল করে দাওয়া হয়েছে,প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, আরো জানান, আপনারা জেনে খুশি হবেন। পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য সুলতানপুরে সাত তলা বিশিষ্ট ষ্টাফ কোয়াটার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পৌরসভার অফিসকে, টাইলস এবং সুন্দর ফার্নিচারে সজ্জিত করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের সময় বেশ কিছু গাড়ি নষ্ট ছিল ধীরে ধীরে সব সমাধান করেছি।