মোঃ তুষার,দাগনভুঞা,সংবাদদাতা
ফেনীর গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ছোট ফেনী নদী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নদীর তীরবর্তী তিন উপজেলা—কোম্পানীগঞ্জ, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা বর্তমানে ভয়াবহ ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
জানা গেছে, নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী মুছাপুর রেগুলেটরটি ভেঙে পড়ায় নদীর স্বাভাবিক গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে। ফলে নদীর নতুন স্রোতের সৃষ্টি হয়ে তীরবর্তী এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভাঙনের কবলে পড়ে শত শত পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি, গ্রামের ভেতরের পাকা ও কাঁচা সড়ক, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়েছে।
চাষিরা জানান, শুধু ঘরবাড়ি নয়, নদীর পাড়ঘেঁষা শত শত একর জমিতে চাষকৃত ধান, শাকসবজি ও রবিশস্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে। পানির চাপে ফসলের পাশাপাশি জমির স্তরও নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মুছাপুর রেগুলেটরটি নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ধসে যাওয়ার পর নদী তার মূল পথ ছেড়ে নতুন স্রোতের ধারা সৃষ্টি করছে, যার ফলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, গত এক মাসে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো মেরামত, সংস্কার বা প্রতিরোধমূলক বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ চোখে পড়েনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে শুধু ঘরবাড়ি নয়, ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট ও সরকারি স্থাপনাও হুমকিতে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে করণীয়:
মুছাপুর রেগুলেটরের দ্রুত পূর্ণ সংস্কার
নদীতীর বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জরুরি পুনর্বাসন
কৃষি সহায়তা কার্যক্রম চালু
ছোট ফেনী নদীর এ ভয়াবহতা আর অবহেলা সহ্য করার সময় নেই। এখনই জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশনামূলক প্রকল্প ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায়, এ নদী ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারে এক ভয়াবহ দানবে পরিণত।