কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) সংবাদদাতা।।
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের ইটাচকি গ্রামের মৃত তোতা মিয়া'র দ্বিতীয় পুত্র পলাশ মিয়া জীবীকার তাগিদে পরিবারের সুখের আশায় গত ০৪/০৯/২৪ ইং তারিখে একই ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের প্রণয় সাহার সহায়তায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কতৃক অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি অফিস MAA AIR INTERNATIONAL RL-1436 এর
মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সৌদি আরবে যান। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস পর সৌদি আরবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে গত ২৪/০৪/২৫ ইং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আত্মহত্যা করে পলাশ মিয়া।
পলাশ মিয়ার সৌদি যাওয়ার ভিসা সংক্রান্ত কাজের সহায়তাকারী নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের প্রণয় সাহা জানান- আত্মহত্যাকারী পলাশ মিয়া আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে আত্মহত্যা করায় আমারও খুবই কষ্ট লেগেছে। নিহত পলাশের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রণয় সাহা আরও জানান- পলাশ মিয়া আমার সহায়তায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ক্রমে বহিরাগমন ছাড়পত্র নিয়ে সরকার অনুমোদিত MAA AIR INTERNATIONAL RL-1436. লাইসেন্স হইতে গত ০৪/০৯/২০২৪ইং তারিখে বৈধভাবে সৌদি আরবে যায়। পলাশ মিয়া সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর চুক্তি অনুযায়ী সে ক্লিনারের কাজে যোগদান করেলে নিয়োগকারী কোম্পানি দুইমাসের বেতন তার নামে জমা রাখেন।পরবর্তীতে প্রতিমাসের বেতন সে নিজে সাক্ষর করে উত্তোলন করে যা প্রমাণস্বরূপ আছে।
সেলারী সীট কোম্পানি বাংলাদেশ এজেন্সিতে পাঠানো হয়েছে, তার ইকামাও হয়েছে, ইকামা নাম্বার- 2602787745। গত ২০ দিন যাবৎ পলাশ মিয়া মানসিক রোগে ভুগছিল। তার রাতে ঘুম হইতো না এজন্য কোম্পানি তাকে তিনবার ডাক্তার দেখিয়েছে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনও বাংলাদেশের অফিসে পাঠিয়েছে নিয়োগকারী কতৃপক্ষ। গত, ২৪/০৪/২৫ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ইমোর মাধ্যমে পলাশের সাথে আমার সর্বশেষ কথা হয়। সপ্তাহ খানেকের মধ্য তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে চিকিৎসার জন্য দুজনের মধ্যে মোবাইলে আলোচনা হয় কিন্তু ওই রাতেই পলাশ আত্মহত্যা করে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক আমাকেও মর্মাহত করেছে। বিশেষ কথা হলো পলাশ অত্যন্ত ভাল মানুষ ছিল। পলাশের ভুল সিদ্ধান্তের ফলে তার পরিবার সহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত পলাশের লাশ তার পরিবারের সম্মতিক্রমে দ্রুত তার পরিবারের কাছে সৌদি আরব থেকে আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং সেইসাথে পলাশের পরিবারের সাথে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হচ্ছে, তারাও পজিটিভ লাশ আনার বিষয়ে এবং সৌদি আরবের নিয়োগকারী কতৃপক্ষ থেকে কোন আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যায় কিনা সেটারও আলোচনা করা হবে।
পলাশের আত্মহত্যার ঘটনাটির সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে যা কখনোই কাম্য নয়। আমি এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।