এবতেদায়ী মাদ্রাসা নিয়ে স্বার্থনেশী মহলের চক্রান্ত

পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা :

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নং অমর খানা ইউনিয়নের ঠুটাপাখুরী স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি নিয়ে একটি কুচক্র মহলের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও  উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন ও বর্তমান কমিটির লোকজন। ঠুটাপাখুরী স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার নাম এবং মাদ্রাসার কোড ৫৬৮২২ ব্যবহার করে ওই এলাকাতেই আরেকটি মাদ্রাসা করার অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার বরখাস্ত কৃত শিক্ষক মোঃ সোলায়মান আলী ও মোঃ আবু হাসেমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে ঠুটাপাখুরী স্বতন্ত্র এবতেদায়ী ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নামে ৩৩ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মক্তব হিসেবে পরিচালনা করা হয়। ১৯৮৫ সালে ঠুটাপাখুরী স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি সরকারি ভাবে তালিকা ভুক্ত হয়। এবং মোঃ আঃ জব্বার নামে একজন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। নিয়োগের পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে সরকারি ভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয় । এবং ঐ শিক্ষক সরকারি ভাতা পাওয়া শুরু করেন। মাদ্রাসাটি ১৯৯৫ সালে ১ নং অমর খানা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র হিসেবেও নির্ধারণ করা হয়। মাদ্রাসার ভাতা প্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ আঃ জব্বার ২০০৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন । পরবর্তীতে সাবেক কমিটি মোঃ সোলাইমান আলীকে ইব: প্রধান শিক্ষক ও মোঃ আবু হাশেম কে জুনিয়র মৌলবি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষকগণ এক বছর মাদ্রাসা পরিচালনা করার সময় সরকারি ভাতা ধরাতে ব্যর্থ হলে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয় । এবং মাদ্রাসার রেজুলেশন বুক নিবন্ধন কপি নবায়ন কপি সহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদেরকে মৌখিকভাবে মাদ্রাসার পরিচালনার জন্য বলা হলেও তারা কোন কর্ণপাত না করে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর অতিবাহিত করেন। এমতাবস্থায় বর্তমান সাবেক পরিচালনা কমিটি তাদেরকে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য পরপর তিনটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন । সে সময় তারা কোন নোটিশ গ্রহনও না করে কোন উপযুক্ত জবাবও প্রদান করেন নাই । পরবর্তীতে কমিটি তাদেরকে চূড়ান্ত নোটিশের মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এতেও তারা কোন প্রকার যোগাযোগ না করলে ১৫ কার্য দিবস পর তাদেরকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করে সাধারণ সভার মাধ্যমে নতুন কমিটি নিকট দায়িত্ব প্রদান করেন। নতুন কমিটি ২০১০ সালে নতুন শিক্ষক নিয়োগ করে মাদ্রাসা পরিচালনা অবস্থায় গত ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বর্তমান সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে সরকারি করার ঘোষণা দিলে বরখাস্তককৃত শিক্ষক মোঃ সোলায়মান আলী, মোঃ আবু হাশেম ও জয়নুল ইসলাম আমাদের চলমান মাদরাসা হতে ৫০০ মিটার দূরে আমাদের মাদ্রাসার নামে ও মাদ্রাসা কোড ব্যবহার করে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে আরো তিনজন শিক্ষক ও একজন পিয়ন নিয়োগ করেন। সেই সাথে জমি ক্রয় করে মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। আর আমাদের মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের ফাইল ও নবায়ন ফাইল তৈরি করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা বোর্ড , উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিকট পূরণ করেন । এমতাবস্থায় আমাদের চলমান মাদরাসার কোট ও একই নামে মাদ্রাসা নির্মাণের আইন বহির্ভূত কাজ বন্ধের জন্য অভিযোগ দাখিল করেন , সাবেক ও বর্তমান কমিটি।
তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক জুনিয়র মৌলবি শিক্ষক মোঃ আবু হাসেমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ওই মাদ্রাসায় আমি শিক্ষকতা করে আসতেছি, মাদ্রাসাটির নামে কোন জমি ছিল না, আগের কমিটির লোকজন কোন জমির ব্যবস্থা করতে না পারায় আমাদের বিল বেতন পর্যন্ত হয়নি।  আমরা বিনা বেতনে এতদিন চাকরি করেছি। তবে এখন আমরা জমি পেয়েছি তাই আমরা নতুন করে কমিটির মাধ্যমে মাদ্রাসাতে স্থাপন করে তিনজন শিক্ষক ও একজন পিয়ন নিয়োগ দিয়ে ২০২৫ সালে মাদ্রাসাটি ঘর নির্মাণ করে বর্তমান আমরা পরিচালনা করতেছি।  সাবেক প্রধান শিক্ষক, মোঃ সোলায়মান আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ঠুটাপাখুরী স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাটির কোন জমি ছিলনা।  মাদ্রাসার নামে জমি থাকলে, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে চাকরি করতে হতো না । তাই আমরা এখন জমি ক্রয় করে ২০২৫ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা তিনজন শিক্ষক ও একজন পিয়ন ইতিমধ্যেই নিয়োগ করেছি। শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার কমিটি নতুন ভাবে  কিভাবে করলেন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ২০১৮ সালে তিনজন শিক্ষক ও একজন পিয়ন কে নিয়োগ দেই। আমরা নতুন কমিটির মাধ্যমে জমি ক্রয় করে আমরা এই মাদ্রাসা টি স্থাপন করি । কবে করা হলো আর কিভাবে করলেনএই প্রশ্নের জবাবে বলেন ২০২৫ সালে । নিয়োগ, এবং নতুন কমিটি  ২০১৮ সালে আর মাদ্রাসা স্থাপন করা হলো ২০২৫ সে এ বিষয়ে কি বলবেন, মুখে মুচকি হাসি দিয়ে পরে দেখা করবেন বলে চলে যান সাবেক প্রধান শিক্ষক, মোঃ সোলায়মান আলী। তবে এদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে মাদ্রাসাটির ঘর নির্মাণের আগেই, ঘোষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে, শিক্ষক ও পিয়ন নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাবেদ আলী।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ