সংবাদ প্রতিবেদন : ডেস্ক।
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ নিছক বড় আকারের না করে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তবতার নিরিখে প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন সরকার ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পেয়ার আহম্মাদ বিপ্লব। তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শন ও জনকল্যাণের রূপরেখা। রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়ন করলে বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি, শিল্প, রপ্তানি ও প্রবাসী আয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন এই শিক্ষাবিদ। একই সাথে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি গভীরভাবে বিবেচনার কথা জানান তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব তুলে ধরে পেয়ার আহম্মাদ বিপ্লব জানান, উন্নয়নশীল দেশে এসব খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সময়মতো ব্যয় না হয়ে অর্থবছর শেষে ফেরত যাওয়া জনসম্পদের অপচয়ের শামিল। এটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা। প্রতিরক্ষা খাতসহ অন্যান্য বড় ব্যয়ের ক্ষেত্রগুলোতে বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একটি সফল বাজেটের প্রকৃত পরিচয় তার আকারে নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাবের মধ্যেই নিহিত বলে তিনি মনে করেন।