সংবাদ প্রতিবেদন : বাংলা প্রেস মিডিয়া ডেস্ক।
গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনের পর, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাঁশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে প্রচারণামূলক এক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ৩ মে, ২০২৬ তারিখে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই আয়োজন করা হয়। তথ্য কর্মকর্তা এস এম আল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম এবং অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
সমাবেশে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড তুলে ধরেন তথ্য কর্মকর্তা। তিনি জানান, নিজস্ব জমি বা বাড়ি নেই এমন ভূমিহীন পরিবার, দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের অসচ্ছল মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন। পাশাপাশি, নারী প্রধান পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী সদস্য যুক্ত পরিবার এবং ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ে থাকা আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে এই কার্ডের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে, সরকারি চাকরিজীবী, অবসরভাতাভোগী, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহারকারী এবং ৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকা ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন না।
নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারের মোবাইল ওয়ালেটে প্রতি মাসে ন্যূনতম দুই হাজার পাঁচশত টাকা নগদ সহায়তা পৌঁছাবে। এছাড়া, সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি এবং কৃষি ভর্তুকিও ধারাবাহিকভাবে এই কার্ডের মাধ্যমেই বিতরণ করা হবে। এস এম আল আমিন তাঁর বক্তব্যে নিশ্চিত করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এই কার্ডকে একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তরের রূপকল্প রয়েছে সরকারের। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ‘কেউ পিছিয়ে থাকবে না’ স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আধুনিক সনদ হলো এই ফ্যামিলি কার্ড।