সংবাদ প্রতিবেদন : বাংলা প্রেস মিডিয়া ডেস্ক।
তীব্র তারল্য সংকট, লাগামহীন খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের চরম আস্থাহীনতার কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এক গভীর ও বহুমাত্রিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পেয়ার আহম্মাদ বিপ্লবের এক পর্যবেক্ষণমূলক নিবন্ধে দেশের আর্থিক খাতের এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরা হয়।
নীতিগত অদক্ষতা, মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি এমন এক চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি সহায়তা ছাড়া তাদের দৈনন্দিন সাধারণ লেনদেন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী মহলের অনুকূলে বিশাল অঙ্কের ঋণ ছাড় করা এবং ঋণ পুনঃতফসিলের কাঠামোগত অপব্যবহারের ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থায়ী খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ব্যাংকগুলোর নতুন আমানত সংগ্রহের স্বাভাবিক গতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ঋণ পুনরুদ্ধারের পথ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দুর্বল তদারকি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে এসব নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এই খাত যখন আস্থাহীনতায় ভোগে, তখন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার গুরুতর শঙ্কা তৈরি হয়। আইনের অসম প্রয়োগ এবং প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের প্রতি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে একটি অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জাতীয় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে ওই নিবন্ধে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ও আপসহীন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দিলে বর্তমানের এই তারল্য সংকট অচিরেই এক দীর্ঘমেয়াদি ও অপূরণীয় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।