রাসেল আহমেদ,খুলনা
খুলনার লবণচরা থানাধীন কাজীবাছা নদীতে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহের হত্যার রহস্য দীর্ঘ আট মাস পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পিবিআই ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট দুপুর ২টা ২৮ মিনিটের দিকে পুটিমারি দশগেট এলাকায় ম্যাক শিপিংয়ের খালি জায়গার পশ্চিম পাশে কাজীবাছা নদীর পাড়ে একটি বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পিবিআই খুলনা জেলা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহটি পচে যাওয়ায় তখনই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে রূপসা নৌ-পুলিশ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ব্যক্তি মো. শফিকুল ইসলাম (৫৪), পিতা- মৃত আঃ মান্নান, সাং- পোতপাড়া, থানা- অভয়নগর, জেলা- যশোর।
এরপর আদালতের নির্দেশে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই খুলনা জেলা। তদন্ত চলাকালে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন এলাকা থেকে যশোরের অভয়নগর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের মো. দ্বীন ইসলাম শেখকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেন বলে জানায় পিবিআই।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত শফিকুল ইসলাম ও পলাতক মূল আসামি রুবেল (ছদ্মনাম) একসঙ্গে কাঠের ব্যবসা করতেন। ব্যবসা থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে রুবেল ও তার সহযোগীরা নৌকার মাঝি দ্বীন ইসলামকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি বস্তাবন্দি মালামাল নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে ভাড়া করেন। পরে ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে ভাটপাড়া ঘাটে নৌকা নিয়ে আসতে বলা হয় তাকে।
পরবর্তীতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভিকটিমকে হত্যা করে মরদেহ নৌকায় তুলে বস্তাবন্দি করা হয়। এরপর বস্তার ভেতরে ইট ভরে মরদেহ ভৈরব নদীর মাঝখানে ফেলে দেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।