মো: রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
নড়াইল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা না পেয়ে এক ব্যক্তির বাড়ির ঘরের চালার টিন,বেড়া,রান্না ঘরের খুঁটি খুলে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার রুখালী গ্রামের জাফর সিকদারের ছেলে জাহিদ সিকদার একই গ্রামের কয়েক জনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা ধার নেন। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর বিশ্বাস,মিরাজ বিশ্বাস, মিকাইল বিশ্বাস,ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে এক দল জাহিদের বাড়িতে গিয়ে ঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরের দিন দ্বিতীয় দফায় গিয়ে রান্না ঘরের চালা,খুঁটি ও বসতঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারা।
ঘরের টিন ও আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ঘরটির ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন,জাহিদের দাদি খাদিজা বেগম (৮০)। এ সময় হামলাকারীদের পা জড়িয়ে ধরে আকুতি জানিয়েও তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। জাহিদের সিকদারের বাবা জাফর সিকদার বলেন,রুখালী গ্রামের কিছু সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতঘর,রান্না ঘর, গোয়ালঘর,সব কয়টি ঘরের টিন খুলে নিয়ে গেছে, এমনকি ঘরে থাকা সকল মালপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।
খাদিজা বেগম বলেন,তারা হঠাৎ করে এসে ঘরের টিন খুলতে থাকে।
ভ্যানে করে ঘরের টিন গুলো নিয়ে যায় তারা। এ সময় আমি লাঠি ভর দিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যাই। আমি বুড়ো মানুষ,আমার কথায় পুলিশ আসেনি। একজন পুলিশ আসলে ও আমার ঘর খানা তারা ভাঙতে পারত না। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের একজন মিকাইল বিশ্বাস বলেন,জাহিদ একজন চিটার প্রকৃতির লোক। তার কাছে আমি টাকা পেতাম। টাকাটা বিষয় না,একসঙ্গে চলার সুবাদে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তাকে ব্যবহার করতে দেই।
পরে জানতে পারি,আমার ফোন সে অন্য লোকের কাছে টাকা নিয়ে বন্ধক রেখেছে। আমার ফোন না দিয়ে পলাতক রয়েছে। সে যুব সমাজ নষ্ট করে ফেলছে। ও যাতে আর বাড়ি না আসতে পারে,তাই তার বাড়ি,ঘরের সব খুলে নিয়ে বিক্রি করে আমার ফোন আমি ছাড়ায় নিয়ে এসেছি।
মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ,উপ- পরিদর্শক সুব্রত কুমার দাস বলেন,এ বিষয়ে আমার নিকট কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আমার কাছে কেউ আসেনি।
ভুক্তভোগী পরিবার আসলে অবশ্যই তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) ওলি মিয়া বলেন,ঘরের চালা খুলে নিয়ে গেছে এমন কোনো অভিযোগ থানায় কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।