সংবাদ প্রতিবেদন : মোহাম্মদ আবু দারদা।
ফেনীর দাগনভূঞায় বেসরকারি চিকিৎসাসেবার মান যাচাই ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) পরিচালিত এই কার্যক্রমে লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতির কারণে একটি ক্লিনিক সম্পূর্ণরূপে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি আদেশ অমান্য এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলার সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সিভিল সার্জন ডা. মো. রুবাইয়াত বিন করিমের দেওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এই তদারকি চালানো হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নেতৃত্ব এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে দাগনভূঞা বাজারের তিনটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে আকস্মিক এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অভিযান চলাকালে লাইসেন্স নবায়নের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং কার্যক্রমে অসঙ্গতি পাওয়ায় ‘হাজী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। তবে পদ্মা ডিজিটাল ল্যাব এবং দাগনভূঞা মা ও শিশু হাসপাতালকে লাইসেন্স নবায়নের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসাকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি দাগনভূঞা বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও দণ্ডবিধি বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি এবং ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। এর মধ্যে চরম অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের দায়ে স্থানীয় আল-আমিন বেকারিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সরকারি আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে দোকান খোলা রাখার অপরাধে অপর এক ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই জোড়া অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সহকারী অধ্যাপক ডা. গোলাম সদরুদ্দিন শামিম, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ বিন হোসেন, ল্যাব টেকনোলজিস্ট শামসুল আলম সুমন এবং পরিসংখ্যানবিদ মোশাররফ হোসেন উপস্থিত থেকে পরিদর্শন কার্যক্রমে পেশাগত সহায়তা প্রদান করেন। জনস্বার্থে এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।