ফেনী: চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, অনুমোদনহীন ক্লিনিক সিলগালা

সংবাদ প্রতিবেদন : মোহাম্মদ আবু দারদা।

ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক এলাকার ‘ওয়ান স্টপ ম্যাটারনিটি ক্লিনিক’ নামের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) সন্ধ্যায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

​নিহত প্রসূতির নাম লিজা আক্তার (২২)। তিনি ফেনী সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের প্রবাসী সুমনের স্ত্রী এবং চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তানের জননী। নিহতের পরিবারের দাবি, শনিবার সকালে ক্লিনিকটিতে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের ভুলে ওই প্রসূতির একটি কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে রোগীকে তড়িঘড়ি করে শহরের ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে ডা. কাইয়ুমের সহযোগিতায় পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

​অভিযোগ উঠেছে, ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা এবং তার স্বামী নাজমুল হক মূল অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসক দম্পতি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত থাকার সুবাদে কৌশলে গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের নিজস্ব এই ভাড়াকৃত ক্লিনিকে নিয়ে আসতেন। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দাপ্তরিক তথ্যে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে রোগীর এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারে কর্তৃপক্ষ। এরপর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকেই পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে ক্লিনিকটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

​অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মো. ফৌজুল আজিম, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইমাম হোসেন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মোতালেব হুমায়ুনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ক্লিনিকে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে, গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ