জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন সুবিধাবাদ আর সুযোগসন্ধানীদের ভিড় বাড়ছে, তখন আদর্শিক লড়াইয়ে অবিচল থাকা নেতৃত্বের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। বিশেষ করে মফস্বল রাজনীতির অলিগলি থেকে যারা ঘাম এবং রক্ত ঝরিয়ে উঠে আসেন, তাদের গল্পগুলো হয় ত্যাগের এবং সাহসিকতার। এমনই এক সংগ্রামী ও সাহসী নাম— মোছাঃ নাজমা পারভীন। ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক আকাশে যাকে 'অগ্নিকন্যা' হিসেবে চেনেন প্রান্তিক কর্মীরা। আজ সময় এসেছে তার এই দীর্ঘ সংগ্রামের মূল্যায়ন করার।
নাজমা পারভীন কেবল একটি নাম নয়, বরং ঠাকুরগাঁওয়ের রাজপথে গত দেড় দশকের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিরোধের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিগত দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের সময়ে যখন অনেকেই ভয়ে ঘরে ঢুকেছিলেন, তখন তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে শুরু করে হরিপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আন্দোলন-সংগ্রামের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। হাসিনার পেটোয়া বাহিনীর গুলির সামনে বুক পেতে দিয়ে রাজপথ আঁকড়ে ধরে থেকেছেন তিনি। বারবার জেল-জুলুম আর হামলা-মামলা তাকে দমাতে পারেনি, বরং আরও ইস্পাতকঠিন করেছে।
তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। হরিপুর উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী এবং হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তার সফল দায়িত্ব পালন প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল রাজপথের নেত্রী নন, বরং প্রশাসনিক কাজেও অত্যন্ত দক্ষ। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে জেলার প্রতিটি ইউনিটে নারী নেতৃত্বকে সুসংগঠিত করার পেছনে তার শ্রম অনস্বীকার্য। তৃণমূলের সাধারণ নারী কর্মীদের কাছে তিনি বড় বোন এবং আস্থার ঠিকানা।
কেন তাকে সংরক্ষিত আসনে প্রয়োজন?
সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সাধারণত করা হয় এমন নারীদের জন্য, যারা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কণ্ঠস্বর হতে পারেন। নাজমা পারভীন সেই যোগ্যতার বিচারে সবার শীর্ষে।
প্রথমত, তিনি প্রান্তিক মানুষের অভাব-অভিযোগ খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
দ্বিতীয়ত, উত্তরবঙ্গের অবহেলিত জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার মতো একজন অভিজ্ঞ ও জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করা মানুষের বিশেষ প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তার যে ত্যাগ, তার স্বীকৃতি দিলে দলের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে এক বিশাল উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। তারা বিশ্বাস করতে শিখবে যে, দলে ত্যাগের মূল্যায়ন হয়।
আশার আলো দেশনায়কের সিদ্ধান্তে
বিএনপির সম্মানিত চেয়ারম্যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতি সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সব সময়ই ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের কথা বলে আসছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা, রাজপথের এই সাহসী নেত্রীকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি জাতীয় সংসদে উত্তরবঙ্গের মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবেন।
নাজমা পারভীনের মতো একজন লড়াকু নেত্রী যখন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তখন তা কেবল ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য নয়, বরং গোটা বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, দলের সুযোগ্য হাইকমান্ড তৃণমূলের এই দাবিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। সংরক্ষিত আসনে নাজমা পারভীন আপাকে দেখার অপেক্ষা এখন ঠাকুরগাঁওবাসীর।