নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজহারুলের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ, আদালতে মামলা

রুকন উদ্দিন (কেন্দুয়া) নেত্রকোণা:

 

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আজহারুল হকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ ও জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামান ভূঞা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টেঙ্গুরী মৌজায় প্রায় ৪৩ শতাংশ জমির বৈধ মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দখলে রেখে সেখানে একটি অটোরাইস মিল পরিচালনা করে আসছিলেন মনিরুজ্জামান ভূঞা। তিনি জানান, ২০০৯ ও ২০১০ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে নামজারি, খাজনা প্রদানসহ সকল আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং সরকারি স্বীকৃত মালিক হিসেবে ভোগদখলে ছিলেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষক আমার ভগ্নিপতি ও ছোটবোন আজহারুল হক ও তার স্ত্রী ফরহানা ইয়াসমিনকে অটোরাইস মিল দেখাশোনার দায়িত্ব দেই। এ সময় তাদের কথামতো একটি আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান। কিন্তু পরে কৌশলে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার অজান্তেই হেবা (দান) ঘোষণার দুটি দলিল তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী দাবি করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে আদালতে দলিল বাতিলের জন্য পৃথক মামলা দায়ের করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা নিজেদের অবৈধ দাবির পক্ষে শক্তি প্রদর্শন করে তাকে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে।
গত ২ এপ্রিল বিকেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে তার রাইস মিলে প্রবেশ করে কর্মচারীদের কাজে বাধা দেয় এবং জমি দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায় যে, যেকোনো সময় তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসাদুল হক বলেন, শিক্ষক আজহারুল ইসলাম অত্যন্ত মিথ্যাবাদী, পরধনলোভী। সে জোরপূর্বকভাবে মনিরুজ্জামানের দখলীকৃত জমি নিজ দখলে নিতে খুবই পাঁয়তারা করছে। অতীত ওই আজহারুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন জেল খেটেছে এমনকি চাকরি থেকে সাসপেন্ডও ছিল।

আল খায়রুল অটো রাইস মিলের ফোরম্যান মো. মামুন মিয়া বলেন, আমি গত কয়েকবছর ধরে এই মিলে চাকরি করছি, যার প্রকৃত মালিক মো. মনিরুজ্জামান ভূইয়া, কিন্তু কিছুদিন ধরে তার ছোট ভগ্নিপতি মো. আজহারুল ইসলাম মেইলে অনধিকার প্রবেশ করে আমাদের মারধোর করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। আজহারুল ইসলাম অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির মানুষ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলার বিষয়ে কথার প্রসঙ্গে বলেন- আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মনিরুজ্জামান ভূইয়া শামীম, তাই মামলা থেকে বাঁচার জন্য আমিও পাল্টা একটি অভিযোগ করেছি। তাছাড়া তালাগুলো না ভাঙলে আমি অভিযোগ দাখিল করতাম না।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়াটা জরুরী বলে করছেন।

 

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ