জসীমউদ্দিন ইতি
ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের মালাসেস (চিটাগুড়) লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মিলের ভেতরের মেইন হাউস থেকে কৌশলে প্রায় দুই শতাধিক ড্রাম ভর্তি মালাসেস বের করে বিক্রি করার অভিযোগ করা হয়েছে মিল কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে সুগারমিল সংলগ্ন হরিহরপুর গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে ১৩ টি চিটাগুড়ের ড্রাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মালাসেস মিল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে মিলের পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন একটি শুকনো ডোবায় মালাসেসের ড্রামগুলো সরিয়ে রাখা হয়। পরে রাতের আঁধারে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মালাসেস ডিলার মামিনসহ কয়েকজন শ্রমিক নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তরা সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে না পেরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি মিলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও মিলের মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি করে সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকার মালাসেস লুটপাট করছে বলেও তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কুদ্দুস এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান রতন।
সদর থানার এসআই তৌহিদ জানান, সন্দেহভাজন ডিলার মামিন পলাতক রয়েছে। উদ্ধারকৃত ১৩ ড্রাম মালাসেসের কোনো মালিকানা পাওয়া না যাওয়ায় তা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, মেইন হাউসে ঠিক কত পরিমাণ মালাসেস সংরক্ষিত ছিল এবং কত পরিমাণ লুটপাট হয়েছে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ। তবে সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান কবির জানান, মেইন হাউসের পাইপলাইনে লিকেজের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানার পর কিছু মালাসেস নিজস্ব জনবল দিয়ে উদ্ধার করে মিলে নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।