জসীমউদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও।
ঠাকুরগাঁওয়ে পুরোহিত শংকর চন্দ্র মল্লিকের বিরুদ্ধে মন্দিরের জমি দখলসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের গোবিন্দনগরে পুরোহিতের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মন্দিরের জমি দখল, মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানিসহ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে আদিবাসীদের পক্ষে ভুক্তভোগী গোপাল খালকো ও দিপালি খালকো দীপা বলেন, আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের বৈধ ভোগদখলীয় জমি এবং প্রায় ২৮ বছর আগে নির্মিত কালী মন্দিরে নিয়মিত পূজার্চনা করে আসছিলেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা।
মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে শংকর চন্দ্র মল্লিক নামে এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মন্দিরের অর্থ আত্মসাতসহ ২০১৮ সাল থেকেই বিভিন্ন অবৈধ কৌশল অবলম্বন করে কতিপয় কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে উক্ত মন্দিরের জমিটি জবরদখলের চেষ্টা করে। এ উদ্দেশ্যে তারা আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, অতীতে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন রেকর্ড ও উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানার বিষয়টি আমাদের পক্ষে স্পষ্ট থাকলেও তা উপেক্ষা করে নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি মন্দিরের জমি দখলের উদ্দেশ্যে ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। যা আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এছাড়া, গত ১৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি ও তার বোন আহত হন বলেও দাবি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তীতেও একই পক্ষ পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করলে আদালতে আরও একটি মামলা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে দীপা খালকো বলেন, “আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং আমাদের জমি দখলের অপচেষ্টা চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী গোপাল খালকো, দিপালি খালকো দীপা, খুকু খালকোসহ স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা।