জসীমউদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও ।
ঠাকুরগাঁওয়ে চার শিশুর শরীরে হাম ও রুবেলা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন হামে এবং দুইজন রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ নজরদারি ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। অন্যদিকে রুবেলা কম গুরুতর মনে হলেও শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে আক্রান্ত শিশুর নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা হতে পারে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, হাম মোকাবিলায় হাসপাতালে ইতোমধ্যে ৪ শয্যার একটি আলাদা আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে। আক্রান্ত দুই শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের পর বড় ধরনের কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় সংক্রমণের এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ৬ জন শিশুর নমুনা পাঠিয়েছিলাম, যার মধ্যে চারজনের পজিটিভ এসেছে। ওই এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে সংক্রমণ আর না ছড়ায়।”
করণীয় ও পরামর্শ: চিকিৎসকরা শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর (Measles-Rubella) টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।