শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা।।
সুন্দরবনে বুধবার (১এপিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হলেও বনদ্যুদের দৌরাত্ম বৃদ্ধির কারণে বনে যেতে পারছেন না মৌয়ালরা। প্রথম দিন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ থেকে মধু সংগ্রহে একটি নৌকাও যায়নি সুন্দরবনে। একাধিক দস্যু বাহিনী অগ্রিম চাঁদা দাবি করায় অসংখ্য মৌয়াল বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও দস্যুভয়ে মধু সংগ্রহে যেতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। লাখ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে জীবন ও সম্পদ হারানোর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না অনেকেই। ফলে এবছর অনেকটা অনিশ্চত হয়ে পড়েছে সুন্দরবন থেকে কাঙ্খিত পরিমাণ প্রাকৃতিক মধু ও মোম আহরণ।
তবে প্রথম দিনে শরণখোলা রেঞ্জ থেকে কোনো মৌয়াল বা নৌকা বনে না গেলেও চাঁপাই রেঞ্জ থেকে ১৭টি নৌকায় পাস দেওয়া হয়েছে। দস্যুভয় ও হুমকি উপেক্ষা করে দেড় শতাধিক মৌয়াল মধু সংগ্রহে গেছেন বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. খলিলুর রহমান জানান, শরণখোলা স্টেশন থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৮টি নৌকার বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) কাটা হয়েছে। যা গতবার এই সময়ে বিএলসির সংখ্যা ছিল ৬০টি এবং মৌসুম শুরুর প্রথম দিনেই ২০টি নৌকায় দুই শতাধিক মৌয়াল মধু সংগ্রহে গিয়েছিলেন। এবার দস্যুদের ভয়ে একটি নৌকায়ও পাস কাটেনি মৌয়ালরা।
এসও খলিলুর রহমান জানান, মৌলাদের সব ধরণের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ^াস দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ মার্চের মধ্যে সকল মৌয়ালকে পাস করার জন্য বলা হয়েছে। পাস করা হলে একসঙ্গে মৌয়ালদের নৌকাবহর বনরক্ষীদের এসকর্ট দিয়ে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস বলেন, রেঞ্জের চাঁদপাই স্টেশন থেকে ২৩টি এবং ঢাংমারী স্টেশন থেকে ৯টি নৌকার বিএলসি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রশত দিন ১৭টি নৌকায় পাস নিয়ে দেড় শতাধিক মৌয়াল বনে গেছেন। এদের নিরাপত্তায় টহল এবং নজরদারি বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বন অফিসগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বনদস্যুদের উৎপাতে এবছর মৌয়ালের সংখ্যা অনেক কম উল্লেখ করে এসিএফ দীপন চন্দ্র দাস আরো বলেন, ঝুঁকি এড়াতে মৌয়ালরা যাতে দলবদ্ধভাবে মধু সংগ্রহ করেন সেব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া বনের ভোলা নদীসংলগ্ন অগ্নিকাÐপ্রবন ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর কমপার্টমেন্ট এলাকায় মধু আহরণ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মৌয়ালদের।
হতাশা প্রকাশ করে বনবিভাগের এই কর্মকর্তারা বলেন, পূর্ব সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহকারী পেশাদার মৌয়ালের সংখ্যা এক হাজার ৩০০জন। প্রতি বছরই সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যান তারা। কিন্তু এবছর সেই চিত্র খুবই হতাশাজনক।
চলতি মৌসুমে ৭০০ কুইন্টার মধু, ২০০ কুইন্টার মোম আহরণ এবং এই খাত থেকে প্রায় ২০লাখ টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। কাঙ্খিত পরিমাণ মধু ও মোম আহরণ না হলে রাজস্ব ঘাটতির পাশপাশি মৌয়াল পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ##