
সংবাদ প্রতিবেদন : বাংলা প্রেস মিডিয়া ডেস্ক।
দেশের সকল সরকারি বিদ্যালয়ের প্রাইভেট পড়ানো এবং কোচিং বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগ থেকে ১০ মার্চ, ২০২৫ তারিখে এই কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন এই আদেশের ফলে পাঠদান কার্যক্রম শেষে বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগের জারি করা ওই আদেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষককে সম্পূর্ণ দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবিলম্বে এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের সকল শিক্ষা কর্মকর্তাকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূলত ‘৪ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ওপর ভিত্তি করেই এই আইনি কাঠামো পরিচালিত হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি বেতনভুক্ত কোনো শিক্ষক তার নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে অর্থের বিনিময়ে পড়াতে পারবেন না। সরকারি বিধিমালায় কোচিং বাণিজ্যকে সরাসরি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের জন্য সম্পূর্ণরূপে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি-এর বিনিময়ে অতিরিক্ত ক্লাসের বিধান থাকলেও, কাউকে সেখানে বাধ্য করার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে শিক্ষাকে মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হতে না দেওয়াই এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য। শিক্ষকেরা নিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ালে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অবহেলা এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পবিত্রতা রক্ষার্থে শিক্ষা প্রশাসন এই শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতি অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে এমপিও বাতিল, বেতন-ভাতা স্থগিত থেকে শুরু করে চাকরিচ্যুত করার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।