খেলার মাঠে তারুণ্যের জয়গান এবং ‘লিগ্যাসি লিগ ২.০’-

জসীমউদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও।

 

বর্তমানে আমাদের সমাজ যখন কিশোর গ্যাং, ডিজিটাল আসক্তি আর মাদকদ্রব্যের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হওয়ার শঙ্কায় কাঁপছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের একদল অদম্য কিশোর ও তরুণ আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘লিগ্যাসি লিগ’ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় মৌসুমের আয়োজন কেবল একটি খেলা নয়, এটি এক সামাজিক জাগরণের নাম। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া এই আসরের খেলোয়াড় নিলাম বা ‘জমিদারের নিলাম ২.০’ প্রমাণ করেছে যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং সুযোগ পেলে আমাদের কিশোররা পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

প্রায় ২৫০ জন উদীয়মান ফুটবলারকে নিয়ে ১৬টি দলের এই লড়াই কেবল মাঠের ড্রিবলিং বা গোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একাধারে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব এবং নেতৃত্বের পাঠশালা। উৎসবমুখর পরিবেশে যেভাবে ২৫০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ১৬টি দল তাদের স্কোয়াড গঠন করেছে, তা জেলা পর্যায়ের ফুটবল চর্চায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একে ‘জমিদারের নিলাম’ নাম দিয়ে আয়োজকরা যে শৈল্পিক এবং সৃজনশীল আবহ তৈরি করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সবচেয়ে আশাব্যাঞ্জক দিক হলো এই টুর্নামেন্টের সময়সূচি। মে মাসের শেষে খেলা শুরু হয়ে আগামী কোরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন ফাইনাল ম্যাচের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে কেবল খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সুস্থ বিনোদনের দিকে ধাবিত করার এক চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে জার্সি উন্মোচন আর কনসার্টের পরিকল্পনা তরুণদের বিনোদনের খোরাক জোগাবে, যা তাদের বিপথগামী হওয়া থেকে দূরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

স্কুলভিত্তিক এই আয়োজন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে অনেক কিছু। প্রতিটি এলাকা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি এমন পরিকল্পিত খেলার আয়োজন থাকতো, তবে কিশোররা মোবাইল ফোনের স্ক্রিন ছেড়ে খেলার মাঠে ফিরে আসত। ঠাকুরগাঁওয়ের এই ‘লিগ্যাসি লিগ’ মডেলটি হতে পারে সারাদেশের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।

তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে কেবল শিক্ষার্থীদের উদ্যমই যথেষ্ট নয়। সমাজের সচেতন নাগরিক, স্থানীয় প্রশাসন এবং ক্রীড়া অনুরাগী বিত্তবানদের উচিত এই তরুণদের পাশে দাঁড়ানো। মাঠের সংকট নিরসন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই একদিন জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার তৈরির কারখানায় রূপান্তরিত হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, ঠাকুরগাঁওয়ের রাজপথে ফুটবলের এই জয়গান অব্যাহত থাকবে। ‘লিগ্যাসি লিগ ২.০’ সফল হোক এবং ফুটবল হোক আমাদের কিশোর-তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর আগামীর স্বপ্নসারথি।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ