সংবাদ প্রতিবেদন : মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৫ মার্চ গণহত্যা স্মরণে এক বিশেষ স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জেলা তথ্য অফিস। বুধবার (২৫ মার্চ, ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বর্তমান প্রজন্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ জসিমউদদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবু তাহের এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণা করে মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, প্রয়াত জননেতা খাজা আহমেদের নেতৃত্বে ফেনীতে প্রথম প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। সে সময় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও বর্তমান প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সেই অকৃত্রিম চেতনা ধারণ করার ওপর জোর দেন এই বীর সেনানী।
ফেনী সরকারি কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রভাষক মনিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি 'লারকানা ষড়যন্ত্র' থেকে শুরু করে ২৫ মার্চের কালরাতের ভয়াবহতা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এর প্রভাব এবং ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে এই গণহত্যার প্রাসঙ্গিকতা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য জঘন্য গণহত্যার ইতিহাসও তার আলোচনায় উঠে আসে। এরপর কারিগরি শিক্ষার বর্তমান প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সার্বিক কার্যক্রমের ওপর দুই মিনিটের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জসিমউদদীন বর্তমান সামাজিক অবক্ষয় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্যুতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সমাজে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজে জড়িয়ে পড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সবশেষে তথ্য অফিসার এবং এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এস. এম. আল আমিন উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।