লিখিত অভিযোগের কোন সুষ্ঠু সমাধান না পেয়ে নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ৭ দিনের আল্টিমেটাম

রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া-নেত্রকোণা:

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর আদলে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। লিখিত অভিযোগের দীর্ঘদিনেও কোনো সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় অবশেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের আদলে নিজেদের উপস্থাপন করে। এসময় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বেগম খালেদা জিয়া-এর বেশ ধারণ করে মঞ্চে উঠতে গেলে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তাকে বাধা দেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীর বাবা মো. লিঙ্কন মিয়া অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ প্রধান শিক্ষককে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ৭ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি সৃজনশীল অনুষ্ঠানে শিশুদের স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে এমন বাধা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন, ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তার বিকাশ, যা এ ঘটনায় ব্যাহত হয়েছে।

এ ঘটনার জেরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে শিশুদের সৃজনশীলতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন। বর্তমানে স্থানীয়দের দৃষ্টি এখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দিকে—৭ দিনের আল্টিমেটামের মধ্যে তারা কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

এবিষয়ে নওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাহ্ উদ্দিন সালাম বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আদলে যেমন খুশি তেমন সাজো আঙ্গিকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, কিন্তু বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক তাকে নিষেধ করে, এতে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে শিশুটির বাবা প্রধান শিক্ষকের বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও কয়েকমাস অতিবাহিত হয়ে গেছে কিন্তু আজ পর্যন্তও শিশু বা তার পরিবার কোন সান্ত্বনা পেল না। তাই বিএনপি নেতৃবৃন্দ সহ ইউনিয়নবাসী বিদ্যালয়ে গিয়ে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে না হলে তার কঠোর আন্দোলনে নামবেন তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফসা আক্তার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি অনেকদিন হয়ে গেছে, তারপরও বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলবো জরুরী।

 

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ