এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম খান জীবদ্দশায় তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান পাননি-এমন অভিযোগ উঠে এসেছে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে। ফলে মৃত্যুর পরও তাঁর অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিরাজ করছে।
জানা যায়, শাহ আলম খান পিরোজপুরের ৯ নম্বর সেক্টরে দেশ রক্ষা বিভাগের সদস্য হিসেবে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে একটি সনদপত্রও তিনি অর্জন করেছিলেন। তবুও জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি সরকারি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আশায় শাহ আলম খান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। অনেক সময় চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁকে। কখনো খেয়ে না খেয়ে থেকেও তিনি তাঁর প্রাপ্য সম্মানের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
এই অবহেলা ও বঞ্চনার কষ্ট বুকে নিয়েই তিনি জীবন পার করেন। অবশেষে মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশা সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন বছর আগে ইন্তেকাল করেন তিনি।
বর্তমানে তাঁর একমাত্র সন্তান মোঃ আল-আমিন খান বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কামলা (পশ্চিম গড়ঘাটা) গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি তাঁর পিতার যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন-একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা জীবদ্দশায় কেন তাঁর প্রাপ্য সম্মান পেলেন না? মৃত্যুর পর স্বীকৃতি এলেও তা কতটুকু অর্থবহ হবে-এ প্রশ্ন আজও জাতির বিবেককে নাড়া দিচ্ছে