সংবাদ প্রতিবেদন : বাংলা প্রেস মিডিয়া ডেস্ক।
ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্ন ও জনমতের ভিত্তিতে দেশের সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজশাহীর সারদায় এক গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আলোকেই এই সংশোধন প্রক্রিয়ার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
জিয়াউর রহমানকে সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এসব বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ উল্লেখিত বিষয়াবলিকে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সংশোধনী খসড়া প্রস্তুত করবে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিধি মোতাবেক প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলাপ-আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। তার মতে, বর্তমান সময়ের জনপ্রত্যাশা এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করেই সংস্কারের প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পেশাগত দায়িত্ববোধের ওপর জোর দেন। পুলিশের এই ইউনিফর্মকে কেবল ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে না দেখে, একে ত্যাগ ও সেবার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করতে তিনি নবীনদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশমাতৃকার সেবায় সততা, সাহসিকতা ও মানবিকতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন তিনি। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।