রাসেল আহমেদ,, খুলনা
।রিমঝিম বৃষ্টির স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় ভিন্নমাত্রা পায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে খুলনা মহানগরীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয় মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। আকাশভরা মেঘ আর টিপটিপ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই ঈদের নামাজ আদায়ে মসজিদে মসজিদে ভিড় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
নগরীর প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে। খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহের ইমামতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় জামাতটি। এতে অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা জড়ো হন। একই মসজিদে সকাল ৯টা ও ১০টায় আরও দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান জামাতে অংশ নেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ঈদের চিরচেনা আনন্দ—কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মুখর হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ।
এদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা, দৌলতপুর, রূপসা, বসুপাড়াসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডেও পৃথকভাবে জামাতের আয়োজন করা হয়।
নগরীর নিউমার্কেট, ডাকবাংলা, ময়লাপোতা, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন মসজিদে ছিল মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি। সব মিলিয়ে বৃষ্টিস্নাত সকালেও ঈদের আনন্দে কোনো ঘাটতি ছিল না—বরং প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় তা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, প্রতিবন্ধী কেন্দ্র ও আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করে ঈদের বিশেষ সংখ্যা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলেও ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর—যেখানে বৃষ্টি হয়ে উঠেছে আনন্দেরই এক অনন্য ।