
সংবাদ প্রতিবেদন : বাংলা প্রেস মিডিয়া ডেস্ক।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ফেনী জেলার পৃথক তিনটি স্থানে শুক্রবার (২০ মার্চ, ২০২৬) সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার খবরের ওপর ভিত্তি করে সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের পূর্ব সুলতানপুর গ্রামের দুটি স্থান এবং পরশুরাম পৌরসভার কোলাপাড়া এলাকায় এই আগাম ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয়রা।
পূর্ব সুলতানপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি জামাতে ইমামতি করেন শাহ আমানিয়া জাহাগিরিয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মোহাম্মদ গোলাম নবী। তার দাবি, শুধু সৌদি আরবের অনুকরণ নয়, বরং শরিয়তের বিধান ও নির্দিষ্ট হাদিসের ব্যাখ্যা মেনেই তারা এই উৎসব পালন করছেন। অত্যন্ত উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সকাল থেকেই ওই ঈদগাহে জড়ো হন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, একই গ্রামের অপর একটি অংশে রশিদিয়া দরবার শরীফের মরহুম পীর মাওলানা গোলাম কিবরিয়ার ছেলে মুহাম্মদ সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে আরও একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়মানুসারে রোজা ও ঈদ পালন করে আসা এই মানুষগুলোর বিশ্বাস, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই রোজা ভাঙা বা উৎসব পালন করা শরিয়তসম্মত। চট্টগ্রাম থেকে এই জামাতে অংশ নিতে আসা আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই তারা তাদের যাবতীয় ধর্মীয় আচার পালন করে থাকেন। মোকাররম হোসেন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তারা আগাম উদযাপন করলেও এলাকার মূল এবং বৃহত্তর ঈদের জামাত শনিবার (২১ মার্চ, ২০২৬) অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, জেলার সীমান্তবর্তী পরশুরাম পৌরসভার ছয়ঘরিয়া কোলাপাড়া এলাকায় ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি নিয়ে আরও একটি ছোট জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরশুরাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, সদ্য প্রয়াত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর হোসেনের অনুসারীরা এই নামাজ আদায় করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ওই স্থানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল।