উমর ফারুক, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালমারী এলাকার করতোয়া নদীর পাড়ে তিন দিনের সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বারুণী মহাস্নানের আজ শেষ দিন ।
মঙ্গলবার ( ১৭ মার্চ ) দিনের আলো ফুটতে না ফুটতেই পুণ্যার্থী ও সাধু সন্ন্যাসীরা এসে জড়ো হতে থাকেন তিন দিনব্যাপী এই স্নান উৎসবে। দলবেঁধে তারা নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান শুরু করেন।
স্নান উৎসবে আসা সনাতন ধর্মালম্বী ও পূজারিরা জানান, চৈত্রের মধুকৃষ্ণ ত্রিদশী তিথির তিনদিন নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করলে পাপ মোচন হয়।এ জন্য দেহ ও মনকে পরিশুদ্ধ করতে অনেকে মাথার চুল বিসর্জন দেন, পূজা অর্চনা করেন।
স্নানমন্ত্র পাঠ করে হাতে বেল পাতা, ফুল, ধান, দূর্বাঘাস, হরিতকি, কাঁচা আম, ডাব, কলা ইত্যাদি অর্পণের মাধ্যমে স্নান সম্পন্ন করেন। কোলের শিশুসহ বিভিন্ন বয়সীরা এই স্নান উৎসবে অংশ নেয়। পর্দানশীল মহিলাদের জন্য নদীর এক মাথায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
মঙ্গলবার সূর্যোদয় থেকে শুরু হওয়া এ পুণ্যস্নান চলবে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত। জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার এলাকার মানিক রায় বলেন, প্রতি বছর এখানে আসি। চুল-দাড়ি কাটার পর উত্তরমুখী স্রোতে পুণ্যস্নান করি। এই স্নানে আমাদের মাতৃহত্যার মতো পাপও মোচন হয়।জেলা শহরের ডোকরোপাড়া মহল্লার নরসুন্দর ননি গোপাল বলেন, চুল-দাড়ি কাটার উপকরণ নিয়ে আমরা প্রতি বছর স্নান উৎসবে আসি। পাপ মোচনের আশায় ভক্তরা পুণ্যস্নান করে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর এলাকার শ্রী অরুণ রায় বলেন, এবার প্রথম স্নাস উৎসবে এসেছি। বাবা মায়ের স্বর্গবাসের আশায় স্নানসহ মাথার চুল বিসর্জন দিয়েছি। স্নান উৎসব আয়োজক কমিটির সভাপতি ওপেনন্দ্রনাথ বলেন, চৈত্রের মধুকৃষ্ণ ত্রিদশী তিথির তিনদিন নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করলে পাপ মোচন হয়। এমন বিশ্বাস থেকে পুণ্যার্থীরা এখানে আসেন। তারা দেহ ও মনকে পরিশুদ্ধ করতে মাথার চুল বিসর্জন দেন, পূজা অর্চনা করেন। জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি বছর এই মেলা ইজারা দেয়া হয়।