
সংবাদ প্রতিবেদন : বাংলা প্রেস মিডিয়া ডেস্ক।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুশাসন নিশ্চিত করতে জনগণের ভয়হীন সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পেয়ার আহম্মাদ বিপ্লব। মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই মত প্রকাশ করেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণি অর্জনকারী এই কর্মকর্তার মতে, জনগণের নীরবতাকে পুঁজি করেই কিছু জনপ্রতিনিধি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন। নাগরিক সমাজ সচেতন হলে এই ভীতির সংস্কৃতির অবসান ঘটানো সম্ভব।
এই কর্মকর্তা তার পর্যবেক্ষণে জানান, সংকীর্ণ চিন্তাধারার কিছু রাজনীতিক সমাজে নিজেদের আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সঞ্চারের কৌশল বেছে নেন। এই ভীতির কারণেই মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে না। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমাজে বলপ্রয়োগ, সিন্ডিকেট এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটে। তবে নাগরিক সমাজ যদি একতাবদ্ধ হয়ে এই ভীতির বলয় থেকে বেরিয়ে আসে, তবে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্পূর্ণ সম্ভব। ব্যক্তিকেন্দ্রিক অন্ধ আনুগত্য বা জনপ্রতিনিধিদের অকারণে ভয় পাওয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পরিস্থিতির উত্তরণে নাগরিকদের জোরালো ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই বার্তায়। যারা প্রকৃতপক্ষে জনকল্যাণে কাজ করেন, তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি বা জুলুমের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ন্যায্য প্রতিবাদ গড়ে তোলা অপরিহার্য। ভালোকে ভালো এবং মন্দকে মন্দ বলার সাহস অর্জন করতে পারলে রাজনীতিতে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তখন জনপ্রতিনিধিরাও অনুধাবন করতে বাধ্য হবেন যে, কেবল জনমুখী কাজের মাধ্যমেই মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা যায়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নাগরিকদের আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করতে সবার আগে মানসিকতার এই পরিবর্তন জরুরি বলে তিনি মনে করেন।