রুকন উদ্দিন (কেন্দুয়া-নেত্রকোণা)।।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী সোমবার পহেলা বৈশাখের মেলা বসবে।
বাংলা নববর্ষ বা বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে শেষ সময়ে ব্যস্ততা বেড়েছে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মৃৎশিল্পীদের। সকাল থেকে মধ্যরাত রাত অব্দি কঠোর পরিশ্রম করে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, হাতি, গরু, গোড়া, পুতুল-পালকি, ব্যাংক সহ আরও অনেক ধরনের চমৎকার খেলনা সামগ্রী মৃৎশিল্পীরা তাদের শৈল্পিক হাতের ছোঁয়া লাগিয়ে খেলনা সামগ্রী কাঁচা মাটি দিয়ে তৈরি করে আগুনে পুড়িয়ে বিভিন্ন রং দিয়ে বাহারি সাজে সাজিয়ে বৈশাখী মেলায় তোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা।
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৮নং বলাইশিমুল ইউনিয়নের লস্করপুর পালপাড়া গ্রামে আজ সকালে গিয়ে দেখা যায়, মৃৎশিল্পীদের প্রতিটি ঘরের সামনে মাটি দিয়ে তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, পালকি-পুতুল, ব্যাংক, কলসি, হাতি, ষাঁড়, গোড়া সহ আরো অন্যান্য বাহারি রংয়ের জিনিসপত্র সাজিয়ে রেখেছেন।
এসব জিনিসপত্র তৈরি করার রোদে শুকিয়ে বা আগুনে পুড়িয়ে প্রস্তুত করে কেউ কেউ রংতুলির আচঁড় দিচ্ছেন। লস্করপুর পালপাড়া গ্রামের প্রায় ১৩/১৪টি পরিবারের ছোট-বড় সবাই তাদের শৈল্পিক হাতের ছোঁয়া লাগিয়ে আনন্দ উৎসবের মতো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
মৃৎশিল্পী দম্পতি সুবল চন্দ্র পাল ও ঝর্ণা রাণী পালের সাথে কথা হলে তারা বলেন- আগামী সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ। এটি বাঙালী সংস্কৃতির একটি উৎসবের আমেজ। এইদিন সারাদেশে বৈশাখের হাট বসবে বাহারি রংয়ের পসরা সাজিয়ে। এইদিন আমরা যারা মৃৎশিল্পীরা আছি আমরাও মাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র তৈরি করে আমাদের পরিবারের পুরুষ লোকজনেরা বৈশাখের মেলায় বিক্রি করবেন। প্রতি বছরের এসময়ে আমাদের একটা বাড়তি আনন্দও আয় রোজগারও হয়।
স্কুল শিক্ষার্থী ও মৃৎশিল্পী অর্পিকা রাণী পাল ও জয় চন্দ্র পাল বলেন- এই শিল্পটা আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য।আমরা পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়তি সময়ে এসব মাটির তৈরি জিনিসপত্র তৈরি করে বাবা-মা ও পরিবারের লোকজনদের সহযোগিতা করছি। এ-সব জিনিসপত্র বিক্রি করে কোনরকম আমাদের সংসার ও আমাদের পড়ালেখার খরচ চলে।
তবে, এ পেশায় ঠিকে থাকাটা আধুনিক যুগে খুবই কঠিন, কারণ এখন মাটির তৈরি জিনিসপত্রের মতো হুবহু প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বাজের সয়লাব। তাই এই পেশা থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমরা যারা এখনো জড়িত আছি তারা খুবই কষ্টের মধ্যে আছি আমাদের কেউ কোন খোঁজখবর নেয় না। সরকারি বা বেসরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা বা সহযোগিতা পেলে হয়তোবা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এই শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা যেতো।
পালপাড়া গ্রামের স্থায়ীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন- একসময় গ্রামগঞ্জের মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর থাকলেও বর্তমানে আধুনিক যুগে প্লাস্টিকের পণ্যের বাজারে ছড়াছড়ির কারণে এই মৃৎশিল্পটা বিলিনের পথে। আমাদের লস্করপুর পালপাড়ে গ্রামে আগেকার সময়ে বহু পরিবার এই শিল্পের সাথে জড়িত থাকলেও এখন মুষ্টিমেয় মাত্র কয়েকজন। কারণ এখন আর আগের মতো মাটির তৈরি জিনিসপত্র বেচা-বিক্রি হয় না, কারণ বাজার ভর্তি প্লাস্টিকের পণ্য।