
জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের কোমরগঞ্জ গ্রামে লটকনের অভাবনীয় ফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে কোমরগঞ্জ বাজারের জোহরা হাসকিং মিল সংলগ্ন বাগান ও বাড়ির আঙিনায় থাকা লটকন গাছগুলোতে এবার প্রচুর ফলন হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় কারিগরি ও সরকারি সহযোগিতার অভাবে তা বড় পরিসরে এগোচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, জোহরা হাসকিং মিল সংলগ্ন গাছগুলোতে থোকায় থোকায় লটকন ঝুলে আছে। মাটির গুণাগুণ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে লটকনের আকার ও স্বাদ বেশ ভালো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো বিশেষ যত্ন ছাড়াই যদি এত ভালো ফলন পাওয়া যায়, তবে পরিকল্পিতভাবে বাগান করলে এটি এলাকার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কোমরগঞ্জ গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা ও কৃষকরা জানান, “আমাদের এলাকায় লটকনের ফলন খুবই ভালো হয়। কিন্তু আমরা জানি না কীভাবে এর বাণিজ্যিক চারা উৎপাদন বা বড় পরিসরে বাগান ব্যবস্থাপনা করতে হয়। যদি কৃষি অধিদপ্তর থেকে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ এবং সঠিক পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে অনেকে লটকন চাষে আগ্রহী হবেন।” তারা আরও জানান, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় লটকন চাষে লাভ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এর বাজার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর এই লটকন বর্তমানে স্থানীয় বাজার ছাড়াও জেলা শহরে বেশ জনপ্রিয়। কোমরগঞ্জের এই সুস্বাদু ফল যদি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হয়, তবে তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকাবাসীর দাবি, কৃষি বিভাগ যদি কোমরগঞ্জসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে লটকন চাষের প্রদর্শনী বাগান তৈরি এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, তবে রানীশংকৈল উপজেলা অচিরেই লটকন উৎপাদনের নতুন হাব হিসেবে পরিচিতি পাবে।