মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর
শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত ৪০টি নওমুসলিম পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ এবং তাদের অংশগ্রহণে এক বিশেষ তারবিয়াতি মজলিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মসজিদে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ‘খাইরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন’ ও ‘দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম শেরপুর জেলা আমির হযরত মাওলানা মুফতি খালেসুর রহমান (হাফি.)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাইরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান সোহাইল ইবনে নূর এবং দাওয়াতুল ইসলাম বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি মাওলানা শিবলী (হাফি.)। এছাড়াও উভয় প্রতিষ্ঠানের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, উপহারপ্রাপ্ত পরিবারগুলো পূর্বে গারো, হাজং, খ্রিস্টান ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলেন। ইসলামের সুমহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা বর্তমানে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। ঈদুল ফিতরের আনন্দ নতুন এই মুসলিম ভাই-বোনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিটি পরিবারের জন্য ঈদ উপহারে ছিল ৫ কেজি চাল, ২ কেজি পোলাও চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি রসুন, ১ লিটার তেল, ২০০ গ্রাম গুঁড়া দুধ, ৫০০ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার, ২ প্যাকেট সেমাই, ৫ প্যাকেট নুডুলস, প্রয়োজনীয় মসলা এবং ২টি করে সাবান। এছাড়াও আত্মশুদ্ধির জন্য ২টি করে তসবি ও মেসওয়াক প্রদান করা হয়। যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
তারবিয়াতি মজলিশে উলামায়ে কেরাম নওমুসলিমদের ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ইবাদত-বন্দেগি ও দৈনন্দিন আমল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, মদীনার আনসার সাহাবীদের ভ্রাতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজের সকলকে এই নতুন মুসলিম ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে ‘খাইরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন’ দেশব্যাপী নওমুসলিমদের সঠিক ইসলামিক শিক্ষা, নিরাপদ বাসস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।