রাসেল আহমেদ,খুলনা
খুলনার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি নাম—এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও স্বীকৃতি পাওয়ায় তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব, খুলনা-৬ আসনে সংসদ সদস্য পদে দলের মনোনয়ন এবং সর্বশেষ খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ—এই তিনটি ঘটনাকে অনেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের বড় তিনটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আবু হোসেন বাবু অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জানা গেছে, শেখ আবু হোসেন বাবু গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাকে খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে তাকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর দেশে ফিরলেও তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাপ্পীকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবেও তার নাম ঘোষণা করা হয়।
ছাত্রদল থেকে উঠে আসা এই নেতাকে প্রার্থী ঘোষণা করা অনেকের কাছেই ছিল চমকপ্রদ। কারণ ওই আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তবে দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে বাপ্পীর মনোনয়নকে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন নেতাকর্মীরা।
এর ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন এ দায়িত্ব পাওয়ার খবরে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলা বিএনপির কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
তাদের আশা, তার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
এদিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার নিজ এলাকা রূপসা উপজেলায়ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করে তাকে অভিনন্দন জানান।
তাদের মতে, বাপ্পী একজন কর্মীবান্ধব নেতা। দলের কঠিন সময়েও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। তার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জেলা রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ফলেই তার এই ধারাবাহিক উত্থান।
দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রম ও ত্যাগের স্বীকৃতিই যেন একে একে মিলতে শুরু করেছে তার রাজনৈতিক জীবনে।
ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মনিরুল হাসান বাপ্পী। রূপসার বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।
পরে তিনি খুলনা জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন। তিনি রূপসা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে খুলনা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও পরে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা স্বচ্ছতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব।
জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে কাজ করব। একসময় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত করাই হবে আমার লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একইভাবে সংগঠন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যতে খুলনার রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এস এম মনিরুল হাসান।