মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মহিষের ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী হামলায় বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা সহ একই পরিবারের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুপিয়ে জখম, মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলার রামেরকুড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর আলম (৩৫) বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে একই গ্রামের মো. আব্দুস ছালাম (৬০), নূর মোহাম্মদ (২৫), নাছিমা আক্তার (২৮), সালমা আক্তার (৩৮), আছমা খাতুন (২১) ও নুরেজা বেগম (৫০)-সহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে
দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে বাদীর পালিত একটি মহিষ দড়ি ছিঁড়ে অভিযুক্ত আব্দুস ছালামের সামান্য ধান খেয়ে ফেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুস ছালামের নির্দেশে দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে বাদীর বসতবাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় বাদীর পিতা আবু বক্কর সিদ্দিক (৬০) প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে লোহার শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গেলে তার বাম হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবারও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার পেছনে কোপ দেওয়া হয়। এ সময় আহতকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার স্ত্রী নুরেজা বেগম (৫৫)। তাকেও মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদেরও লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করা হয়। এতে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় বাদীর ছোট ভাইয়ের পকেটে থাকা ৮৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহতদের দ্রুত ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত আবু বক্কর সিদ্দিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বাদী নুর আলম জানান, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে আসামী আব্দুস ছালাম গংরা অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য বারংবার হুমকি প্রদান করে আসছে।
এ বিষয়ে বিবাদী আব্দুস ছালাম গংদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ঝিনাইহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।