খুলনায় রড-সিমেন্টের হঠাৎ দামবৃদ্ধি, ধীর হচ্ছে উন্নয়নকাজ

রাসেল আহমেদ,খুলনা

 

খুলনায় হঠাৎ করেই বেড়েছে নির্মাণ খাতের প্রধান উপকছরণ রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথরের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব পণ্যের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটায় বিপাকে পড়েছেন ঠিকাদার ও নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রকল্পে কাজের গতি কমে গেছে, কোথাও কোথাও কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথাও ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত মাসেও কোম্পানিভেদে প্রতি টন রড ৭৬ হাজার থেকে ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে গত সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন কোম্পানি হঠাৎ করেই প্রতি টনে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে। ফলে বর্তমানে খুলনার বাজারে ৯৫ হাজার টাকার নিচে কোনো রড পাওয়া যাচ্ছে না।
রডের পাশাপাশি সিমেন্টের দামও বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর আগে বিভিন্ন কোম্পানির ওপিসি সিমেন্ট প্রতি ব্যাগ ৪৭৫ থেকে ৪৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ৪৯০ থেকে ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাথরের বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। আগে ৫/৮ আকারের পাথর প্রতি টন ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪ হাজার ৯৫০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সিলেট থেকে আসা বালুর দামও প্রতি বর্গফুটে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নির্মাণসামগ্রীর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুলনার চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতেও। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনা ওয়াসার প্রায় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় ম্যানহোল স্থাপন, সাবস্টেশন ও শোধনাগার নির্মাণকাজ চলছে। পাশাপাশি খুলনা সিটি করপোরেশনের ৮৪৩ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় বড় ড্রেন নির্মাণ এবং বিভিন্ন সড়কের কাজও এগিয়ে চলছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদার নাসিম কবির বলেন, ২০২৬ সালেও তাদের ২০২২ সালের সরকারি নির্ধারিত দরে কাজ করতে হচ্ছে। গত চার বছরে সরকারি রেট সমন্বয় না হওয়ায় বর্তমান বাজারদরে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

কেসিসি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আক্তার পিন্টু বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে কাজের স্থলে রড সরবরাহ, কাটিং, বাইন্ডিং ও শ্রমিক ব্যয়সহ প্রতি কেজিতে বিল পাওয়া যায় প্রায় ১০৪ টাকা। অথচ এখন রড কিনতেই প্রায় ৯৫ টাকা খরচ হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করলে প্রতি কেজিতে খরচ দাঁড়াচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকার মতো। এতে ঠিকাদারদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে বেশিরভাগ নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকে। তাই এখন বিভিন্ন প্রকল্পে বিরামহীনভাবে কাজ চলছে। তবে নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় কিছু ঠিকাদার কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি মাথায় রেখে কাজের গতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়তে পারেন

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ